মহাকাশ গবেষণায় ফের ভারতের নাম উজ্জ্বল, NASA-র প্রশিক্ষিত নভশ্চর ভারতীয় বংশোদ্ভূত অনিল মেনন (Anil Menon) মঙ্গলবার রাতে পাড়ি দিলেন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশে। কাজাখস্তানের ঐতিহাসিক বৈকানুর কসমোড্রোম থেকে রাশিয়ার সয়ুজ এমএস-২৯ (Soyuz MS 29) মহাকাশযানে পৃথিবী পেরিয়ে মহাশূন্যের পথে উড়ে যেতেই তৈরি হল ইতিহাস। সুনিতা উইলিয়ামসের পর আরও এক ভারতীয়র নাম জুড়ে গেল আইএসএসের (International Space Station) সঙ্গে। পাশাপাশি এটাও মনে রাখার মতো যে এই বৈকানুর থেকেই ভারতের প্রথম নভশ্চর রাকেশ শর্মা মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন। অনিলের মহাকাশ যাত্রার দিকে আগ্রহ ভরে তাকিয়ে ছিল গোটা দেশ। সফল উৎক্ষেপণে খুশি সকলেই।
অনিল মার্কিন গবেষণার সংস্থা নাসার প্রশিক্ষিত নভশ্চর হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারও বটে। বাবা ভারতীয় এবং মা ইউক্রেনীয়। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিকে তাকালে চমকে যেতে হয়। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে নিউরোবায়োলজির ডিগ্রি অর্জন করার পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস মেডিক্যাল ব্রাঞ্চ থেকে এ্যারোস্পেস মেডিসিন নিয়ে পড়াশোনা করেন মেনন। নাসার এই মিশনে ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্ব সামলাবেন তিনি। রাত ১১:৩০ মিনিট নাগাদ আইএসএসের বিশেষ মডিউলের সঙ্গে ডকিং প্রক্রিয়া শুরু হয় অনিলদের মহাকাশযানের। এই মিশনে রয়েছেন রাশিয়ার নভশ্চর পিওতর দুব্রভ এবং মহিলা মহাকাশচারী আন্না কিকিনা। এটি তাঁদের দ্বিতীয় মহাকাশযাত্রা। বংশানুক্রমে কেরালা সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে থাকলেও অনিলের পারিবারিক শিকড় জুড়ে রয়েছে এ রাজ্যের সঙ্গেও। আগামী ৮ মাস আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থাকবেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই নভশ্চর। এই মিশন মহাকাশে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবেন অনিলরা। লক্ষ্য মানবজাতিকে ভবিষ্যতে মহাকাশ অভিযানের জন্য প্রস্তুত করা। পাশাপাশি সভ্যতার উন্নতির জন্য একাধিক প্রযুক্তি নিয়েও কাজ চলবে। পৃথিবী থেকে মহাকাশে কীভাবে চিকিৎসকরা সরাসরি সাহায্য করতে পারেন সেটা দেখার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চালিত আল্ট্রা সাউন্ডের মাধ্যমে নিজেদের রোগ শনাক্তকরণ করা যায় কিনা তা নিয়ে পরীক্ষা চালানো হবে।
















