Tuesday, May 19, 2026

মনরেগার পরিবর্তে ‘জিরামজি’ বিল পাশ লোকসভায়! উত্তাল লোকসভা

Date:

Share post:

বিরোধীদের প্রবল আপত্তি ও বিক্ষোভ সত্ত্বেও লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে MGNREGA-র নাম বদল বিল লোকসভায় পাশ করাল মোদি সরকার। বৃহস্পতিবার লোকসভায় ধ্বনিভোটে ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ অর্থাৎ G Ram G বিল পাশ হয়। বুধবার লোকসভায় শাসক ও বিরোধী মিলিয়ে মোট ৯৮ জন সাংসদ বিল বদল বিতর্কে অংশ নেন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে মধ্যরাত অবধি চলে বিতর্ক। শেষ পর্যন্ত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করেন স্পিকার ওম বিড়লা।

বিলের মূল প্রস্তাব অনুযায়ী, মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট, ২০০৫ (MGNREGA বা মনরেগা) নামে পরিচিত ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের নাম বদলে রাখা হচ্ছে ‘জি রাম জি’ বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)। এর পাশাপাশি, বছরে কাজের দিন ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ করার প্রস্তাব থাকলেও প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ৯০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬০ শতাংশে নামানো হচ্ছে। ফলে বাকি ৪০ শতাংশ ব্যয়ভার রাজ্যগুলির ওপর চাপবে। শুধু তাই নয়, এত দিন রাজ্যের চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ হলেও নতুন আইনে কোন রাজ্য কত টাকা পাবে, তা নির্ধারণ করবে কেন্দ্র। বিরোধীদের দাবি, এর ফলে কাজের আইনি নিশ্চয়তা কার্যত দুর্বল হয়ে পড়বে।

কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে তৃণমূল, কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোদীদল। এদিন ফের আলোচনা শুরু হতেই উত্তাল হয়ে ওঠে লোকসভা। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বক্তব্য রাখতে উঠলে বিরোধীরা ওয়েলে নেমে স্লোগান দিতে থাকেন, বিলের কপি ছেঁড়া হয়। তবে সেই বিক্ষোভ উপেক্ষা করেই সংখ্যার জোরে ধ্বনিভোটে বিলটি পাশ করানো হয়। বিলের বিরুদ্ধে সংসদের বাইরেও সরব হয় বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। আরও পড়ুন: MGNREGA-র নাম বদল নিয়ে কেন্দ্রের তীব্র নিন্দা মুখ্যমন্ত্রীর, গান্ধীজির নামে ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পের নাম

এদিন সকালেই সংসদ চত্বরে মিছিল করেন বিরোধী সাংসদরা। কংগ্রেসের সোনিয়া গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল সাংসদ- অসিত মাল, মিতালি বাগ, প্রকাশ চিক বারিক-সহ একাধিক দলের সাংসদ সেই মিছিলে অংশ নেন। তাঁদের অভিযোগ, গান্ধীর নাম বাদ দেওয়া মানে জাতির জনকের অপমান।

লোকসভায় বিতর্কে অংশ নিয়ে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা কটাক্ষ করে বলেন, “এই সরকারের নাম বদলানোর এক অদ্ভুত নেশা রয়েছে।” পাল্টা জবাবে শিবরাজ সিং চৌহানের দাবি, ২০০৫ সালে আইনটির নাম ছিল ‘ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট অ্যাক্ট’, পরে ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের কথা ভেবেই গান্ধীর নাম জোড়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, মোদি সরকার গান্ধীর আদর্শ মেনেই কাজ করছে।

তবে বিরোধীদের অভিযোগ, গান্ধীর নাম বাদ দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বরাদ্দ কমিয়ে এবং সিদ্ধান্তের ক্ষমতা নিজেদের হাতে রেখে মোদি সরকার ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের মূল কাঠামোকেই দুর্বল করে দিচ্ছে। যথাযথ আলোচনা ছাড়াই তড়িঘড়ি বিল পাশ করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ। শুক্রবার শীতকালীন অধিবেশনের শেষ দিন হওয়ায় বিরোধীদের আশঙ্কা, উচ্চকক্ষেও দ্রুত বিলটি পাশ করানোর চেষ্টা করবে সরকার।

 

Related articles

হকার উচ্ছেদ-বুলডোজার নীতির প্রতিবাদে ২১ মে পথে নামছে তৃণমূল

হকার উচ্ছেদ ও বুলডোজার নীতির প্রতিবাদে এবার প্রতিবাদ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল। ২১ মে হাওড়া স্টেশন, শিয়ালদহ স্টেশন...

মাথা নত করব না: পুরসভার নোটিশ নিয়ে সাফ জানালেন অভিষেক

কলকাতা পুরসভার তরফ থেকে তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) কালীঘাট রোড এবং...

ভারতে মানবাধিকার লঙ্ঘন: নরওয়েতে মোদির পথেই প্রশ্ন এড়ালো বিদেশ মন্ত্রক

সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্ব এক নম্বর দেশ নরওয়ে। তাই সেখানে সাংবাদিকও ভেবেছিলেন যে কোনও প্রশ্ন করলেই উত্তর পাওয়া...

পাহাড়-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলার পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ রাজ্যের

পাহাড়-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করল রাজ্য সরকার (West Bengal Govt.)। পুর আইন অনুযায়ী নতুন বোর্ড গঠন...