Sunday, June 21, 2026

গায়ের জোরে ‘জি রাম জি’ পাশ, MGNREGA-র হত্যা! সংসদ ভবনের সিঁড়িতে রাতভর ধর্নায় তৃণমূল সাংসদরা

Date:

Share post:

ব্যাপক ঠান্ডা দিল্লিতে (Delhi)। এর মধ্যেই ‘জি রাম জি’ বিলের বিরোধিতায় পুরোনো সংসদ ভবনের সিঁড়িতে রাতভর ধর্নায় তৃণমূল সাংসদরা (TMC MP’s protest)। শুক্রবার সকালেও চলছে প্রতিবাদ। মহাত্মা গান্ধী এবং বাঙালিকে অপমানের প্রতিবাদে আগামী ১২ ঘণ্টা ধর্না দেবেন সাংসদরা। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ধর্নায় ছিল কংগ্রেস এবং ডিএমকে-সহ অন্যান্য সাংসদরাও। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মহাত্মা গান্ধীর ছবির সামনে বসে ধর্নায় সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee), সাগরিকা ঘোষ (Sagarika Ghosh), মমতাবালা ঠাকুর, দোলা সেন (Dola Sen), প্রকাশ চিক বরাইক, নাদিমূল হক, সুস্মিতা দেব (Sushmita Deb), সাকেত গোখলেরা।

ভোর পাঁচটা নাগাদ ধর্নাস্থল থেকে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। বলেন, ‘সংসদের সিঁড়িতে আমাদের ধর্না কর্মসূচি চলছে। মহাত্মা গান্ধী এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অপমান আমরা মেনে নেব না।’ ভিডিয়োর শেষে জোর দিয়ে সাগরিকা বলেন, ‘মহাত্মা গান্ধী অমর রহে।’ মোদি সরকার আইন পাস করাতে বুলডোজার কৌশল ব্যাবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন সাগরিকা। তাঁর কথায়, ‘বিরোধীদের সঙ্গে কোনও পরামর্শ করা হচ্ছে না। বৈঠকে ডাকা হচ্ছে না। একের পর এক বিল বুলডোজার কায়দার ঠেলে পাস করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’ তাঁর সাফ কথা, ‘মোদি সরকার দ্বিতীয়বার মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করল।’ বিরোধীদের ব্যাপক হট্টগোলের মধ্যেই বৃহস্পতিবার দুপুরে লোকসভায় পাশ হয় ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ অর্থাৎ ‘জি রাম জি’ বিল।

বিরোধীদের আপত্তি দু’টি জায়গায়। মনরেগা প্রকল্পের পুরো টাকা কেন্দ্রীয় সরকার দিত। কিন্তু ‘জি রাম জি’ বিলে ৬০:৪০ অনুপাতে প্রকল্পের টাকা দেবে কেন্দ্র। ফলে রাজ্য সরকারগুলির ঘাড়ে বাড়তি বোঝা চাপবে। এর সঙ্গে রয়েছে মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ।

বাংলাদেশে ভারতীয় উপদূতাবাসে হামলা! চিন্তা বাড়ছে নয়াদিল্লির 

মঙ্গলবার ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের নাম বদলে বিল পেশ করেন শিবরাজ চৌহান। মনরেগা (Mahatma Gandhi National Rural Employment Guarantee Act)-এর নাম পরিবর্তন করে বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) বা VB-G RAM-G (সংক্ষেপে জি রাম জি) করার প্রস্তাব দেওয়া হয় ওই বিলে। প্রস্তাবিত বিলে ১০০ দিনের কাজের পরিমাণ ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ৯০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬০ শতাংশ করা হচ্ছে। ফলে রাজ্যগুলির উপর চাপ বাড়ছে। তাছাড়া আগে রাজ্যের চাহিদা অনুযায়ী, এই প্রকল্পে বরাদ্দ করা হত। এবার থেকে কেন্দ্র ঠিক করবে কোন রাজ্যে কত বরাদ্দ করা হবে। ফলে সাধারণ শ্রমিকরা ১০০ দিনের কাজ পাবেনই, তেমন কোনও নিশ্চয়তা থাকছে না। আগে এই বিলে কাজের নিশ্চয়তা ছিল।

Related articles

নিটের দিন উদ্ধার গাজিয়াবাদের পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত দেহ!

ফের দেশজুড়ে নিট (NEET)। প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কে জেরে রবিবার ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা হতে চলেছে বসছে ২২ লক্ষ পড়ুয়া...

যোগ দিবসে কলকাতার একাধিক রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণ

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের কর্মসূচির (International Yoga Day Program) জন্য শনিবার থেকেই যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা শুরু হয়েছে মহানগরীর...

যোগ দিবসে মোদির মুখে রবীন্দ্রনাথ থেকে লাহিড়ী মহাশয়ের প্রসঙ্গ, প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ মুখ্যমন্ত্রীর

দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের (12th International Yoga Day) অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। রবিবার...

রেড রোডে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, রয়েছেন রাজ্যপাল-মুখ্যমন্ত্রীও

রবিবাসরীয় সকালে দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের (International Yoga Day) অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতার আয়োজিত...