Wednesday, March 18, 2026

তারেক কাস্ত্রো-চে-ম্যান্ডেলা-মার্টিন লুথার নন: প্রথম বক্তৃতায় স্মরণ করিয়ে দিলেন তসলিমা

Date:

Share post:

মার্টিন লুথার কিং-এর বৈপ্লিবিক স্টাইলে প্রথম বক্তৃতা দিয়ে তার লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন খালেদা জিয়ার পুত্র তথা বিএনপি-র (BNP) ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তারেক রহমান। কিন্তু যে পথে তারেক বাংলাদেশের (Bangladesh) রাজনীতির পথে বেছেছেন, তা বিশ্বের কোনও স্বনামধন্য বিপ্লবীর পথ নয়, বার্তা দিলেন সাহিত্যিক তাসলিমা নাসরিনের (Taslima Nasrin)। তাসলিমার দাবি, যে ধর্মীয় পথে তারেক চলার কথা বলেছেন তা অন্তত কোনও বিপ্লবীর পথের সঙ্গে মেলে না।

দীর্ঘদিন পাশ্চাত্যে সুবিধা ভোগ করে আসা খালেদা পুত্রকে ১৭ বছর পরে দেশে ফিরে বক্তৃতা দিতে শুনে আবেগ আপ্লুত বাংলাদেশের নাগরিকরা। সেখানেই তসলিমার প্রশ্ন, তারেক জিয়া ১৭ বছর একটি সভ্য দেশে বাস করেছেন। সে দেশে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, বাকস্বাধীনতা সবই উপভোগ করেছেন। সে দেশের সভ্যতা, সহিষ্ণুতা, উদারতা উপভোগ করেছেন। তারপর দেশে ফিরে তিনি নবী করীমের ন্যায়পরায়ণতার আদর্শে দেশ পরিচালনা করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। আল্লাহ দয়া করলেই, তিনি মনে করছেন, সব সম্ভব হবে। যুক্তরাজ্য থেকে তাহলে তিনি কী শিখলেন?

মাটির লুথার কিং-এর (Martin Luther King) ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’ (I have a Dream) কথার অনুকরণে বৃহস্পতিবার তারেক দাবি করেছিলেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। তারেকের এই ‘প্ল্যান’ শব্দটি ব্যবহার করাই যথোপযুক্ত বলে মনে করেন তাসলিমা। এর স্বপক্ষে তাঁর যুক্তি, প্ল্যান (plan) শব্দটা ব্যবহার করাই ভাল। ‘ড্রিম’ (dream) শব্দটার, বিশেষ করে ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’ (I have a Dream) বাক্যটার ওজন অনেক বেশি। সমাজের আগপাশতলা বদলে দেওয়ার , দীর্ঘকালের মাইণ্ডসেটকে ঝেঁটিয়ে বিদেয় করার , আর রাষ্ট্রব্যবস্থাকে সভ্য করার পেছনে কিংএর ‘ড্রিম’ টা কাজ করেছে। এই ‘ড্রিম’ বিপ্লবীদের থাকে। ফিদেল ক্যাস্ট্রোর ছিল। চে গেভারার ছিল। নেলসন ম্যান্ডেলার ছিল। মার্টিন লুথার কিং-এর ছিল। এই ড্রিম আল্লাহর নির্দেশিত কানুনের সঙ্গে যায় না।

আরও পড়ুন : চরিত্র বদল জমায়েতের: স্বাধীনতা সংগ্রাম মনে করিয়ে BNP-কে পথ দেখালেন তারেক

তবে বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে মৌলবাদীদের সম্পর্কে তারেককে সচেতন করে তাসলিমার বার্তা, প্ল্যান যদি থাকে, তিনি ধর্মেও থাকবেন, বিজ্ঞানেও থাকবেন, তাহলে পরস্পরবিরোধী দুটো ব্যবস্থাকে তিনি কী করে সামাল দেবেন, তিনিই জানেন। মনে রাখতে হবে, দেশ জিহাদিতে ছেয়ে গেছে। দেশকে বাঁচাতে হলে ধর্ম ব্যবসায়ী, হিংস্র ধর্মান্ধ, নারীবিদ্বেষী জিহাদিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়া উপায় নেই।

spot_img

Related articles

বাম জোটসঙ্গী হয়েই লড়াই: ঘোষিত CPIML-এর ১০ প্রার্থী

অস্তিত্ব সংকটে দাঁড়িয়েও নির্বাচনের আগে জেদ ছাড়তে নারাজ সিপিআইএম। যার ফলে একাধিক বাম শরিকদলের সঙ্গেই সংঘাত। তবে এই...

ইজরায়েলি মিসাইলে মৃত্যু ইরান নিরাপত্তা প্রধানের: হরমুজে ট্রাম্পের পাশে কেউ নেই

পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে ব্যাপক ক্ষয় করলেও সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের যে বড় ক্ষতি হচ্ছে তা বলাই বাহুল্য। এই...

আজকের রাশিফল: কর্মক্ষেত্রে উন্নতি, অর্থাগম ও সতর্কতা – ১২ রাশির বিস্তারিত ভবিষ্যৎফল

গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানের তারতম্যে আজকের দিনটি ১২টি রাশির জন্য ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসতে পারে। কোথাও সাফল্যের ইঙ্গিত, কোথাও...

ভোটের আসরে সন্তান-স্ত্রী-ভাই: শহর থেকে জেলায় তৃণমূল প্রার্থী পরিবারের সদস্যরা

রাজনীতিতে পরিবারবাদ কোনও নতুন তত্ত্ব নয়। বিধানসভা কেন্দ্র তো বটেই, অন্য কেন্দ্র দখল করতেও অনেক সময় একই পরিবারের...