Tuesday, May 19, 2026

তারেক কাস্ত্রো-চে-ম্যান্ডেলা-মার্টিন লুথার নন: প্রথম বক্তৃতায় স্মরণ করিয়ে দিলেন তসলিমা

Date:

Share post:

মার্টিন লুথার কিং-এর বৈপ্লিবিক স্টাইলে প্রথম বক্তৃতা দিয়ে তার লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন খালেদা জিয়ার পুত্র তথা বিএনপি-র (BNP) ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তারেক রহমান। কিন্তু যে পথে তারেক বাংলাদেশের (Bangladesh) রাজনীতির পথে বেছেছেন, তা বিশ্বের কোনও স্বনামধন্য বিপ্লবীর পথ নয়, বার্তা দিলেন সাহিত্যিক তাসলিমা নাসরিনের (Taslima Nasrin)। তাসলিমার দাবি, যে ধর্মীয় পথে তারেক চলার কথা বলেছেন তা অন্তত কোনও বিপ্লবীর পথের সঙ্গে মেলে না।

দীর্ঘদিন পাশ্চাত্যে সুবিধা ভোগ করে আসা খালেদা পুত্রকে ১৭ বছর পরে দেশে ফিরে বক্তৃতা দিতে শুনে আবেগ আপ্লুত বাংলাদেশের নাগরিকরা। সেখানেই তসলিমার প্রশ্ন, তারেক জিয়া ১৭ বছর একটি সভ্য দেশে বাস করেছেন। সে দেশে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, বাকস্বাধীনতা সবই উপভোগ করেছেন। সে দেশের সভ্যতা, সহিষ্ণুতা, উদারতা উপভোগ করেছেন। তারপর দেশে ফিরে তিনি নবী করীমের ন্যায়পরায়ণতার আদর্শে দেশ পরিচালনা করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। আল্লাহ দয়া করলেই, তিনি মনে করছেন, সব সম্ভব হবে। যুক্তরাজ্য থেকে তাহলে তিনি কী শিখলেন?

মাটির লুথার কিং-এর (Martin Luther King) ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’ (I have a Dream) কথার অনুকরণে বৃহস্পতিবার তারেক দাবি করেছিলেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। তারেকের এই ‘প্ল্যান’ শব্দটি ব্যবহার করাই যথোপযুক্ত বলে মনে করেন তাসলিমা। এর স্বপক্ষে তাঁর যুক্তি, প্ল্যান (plan) শব্দটা ব্যবহার করাই ভাল। ‘ড্রিম’ (dream) শব্দটার, বিশেষ করে ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’ (I have a Dream) বাক্যটার ওজন অনেক বেশি। সমাজের আগপাশতলা বদলে দেওয়ার , দীর্ঘকালের মাইণ্ডসেটকে ঝেঁটিয়ে বিদেয় করার , আর রাষ্ট্রব্যবস্থাকে সভ্য করার পেছনে কিংএর ‘ড্রিম’ টা কাজ করেছে। এই ‘ড্রিম’ বিপ্লবীদের থাকে। ফিদেল ক্যাস্ট্রোর ছিল। চে গেভারার ছিল। নেলসন ম্যান্ডেলার ছিল। মার্টিন লুথার কিং-এর ছিল। এই ড্রিম আল্লাহর নির্দেশিত কানুনের সঙ্গে যায় না।

আরও পড়ুন : চরিত্র বদল জমায়েতের: স্বাধীনতা সংগ্রাম মনে করিয়ে BNP-কে পথ দেখালেন তারেক

তবে বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে মৌলবাদীদের সম্পর্কে তারেককে সচেতন করে তাসলিমার বার্তা, প্ল্যান যদি থাকে, তিনি ধর্মেও থাকবেন, বিজ্ঞানেও থাকবেন, তাহলে পরস্পরবিরোধী দুটো ব্যবস্থাকে তিনি কী করে সামাল দেবেন, তিনিই জানেন। মনে রাখতে হবে, দেশ জিহাদিতে ছেয়ে গেছে। দেশকে বাঁচাতে হলে ধর্ম ব্যবসায়ী, হিংস্র ধর্মান্ধ, নারীবিদ্বেষী জিহাদিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়া উপায় নেই।

Related articles

সরকারি খরচে রাশ টানতে কড়া নবান্ন, দফতরগুলিকে একগুচ্ছ নির্দেশিকা মুখ্যসচিবের

রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতরে খরচে লাগাম টানতে এবার কড়া নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে জারি...

অভিষেকের বাড়িতে পুরসভার নোটিশ, বিল্ডিং প্ল্যান চেয়ে পাঠাল পুর কর্তৃপক্ষ

এবার কলকাতা পুরসভার স্ক্যানারে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাট রোড এবং হরিশ মুখার্জি রোডে তাঁর দুটি বাড়ির নির্মাণ...

আরজি কর কাণ্ড: সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে এবার আইনি পদক্ষেপের অনুমতি দিল রাজ্য

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ (স্যাংশন অব প্রসিকিউশন) করার অনুমতি...

ভবানীপুরের প্রতিটি ওয়ার্ডে খুলবে বিধায়কের অফিস, তবে ৭৭ নম্বরে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ভবানীপুর কেন্দ্রেও জয়লাভ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই অভাবনীয় সাফল্যের পর...