আলিপুরদুয়ারে (Alipurduwer) পাঁচে পাঁচ করতে হবে। শনিবার আলিপুরদুয়ারের জনসভা থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের এই বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee Alipurduar)। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থেকে থেকে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) প্রচার শুরু করেছিলেন অভিষেক৷ সেখানও টার্গেট বেঁধে দেন। প্রচারের দ্বিতীয় দিনে আলিপুরদুয়ারে গিয়েও সব আসনে জয়ের টার্গেট বেঁধে দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক৷ তাঁর কথায়,”বিজেপিকে উচিত শিক্ষা দিতে হবে৷ আর উচিত শিক্ষা দিতে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের বাইরে লাইনে দাঁড়াতে হবে” 

উত্তরবঙ্গেও এবার ভাল ফলের জন্য জোর দিচ্ছেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। আসন্ন ভোটে বিজেপিকে (BJP) আনম্যাপ করে দেওয়ার ডাক দেন অভিষেক। পাশাপাশি তিনি জানান, এক দেশ, এক ভোট-এর যে ‘চক্রান্ত’ করা হচ্ছে তা কোনও মতেই হবে দেবেন না। অভিষেকের কথায়, “তৃণমূলই একমাত্র বিজেপিকে জব্দ করতে পারে। বিজেপির থেকে বেশি জেদ আমার। এক দেশ, এক ভোট আইন পাশ করতে দেব না সংসদে।” গেরুয়া শিবিরকে নিশানা করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, “মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নিতে চায় বিজেপি। এবার সবক শেখানোর ভোট। সর্বশক্তি দিয়ে তৃণমূলকে জেতান।” 

বিজেপি সাংসদকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “মনোজ টিগ্গাকে কখনও আন্দোলন করতে দেখেছেন? একটাও চিঠি লিখেছিলেন? সংসদে প্রশ্ন করতে দেখেছেন? বিজেপি সাংসদ ও কালসাপ দু’টোই এক।”
SIR হয়রানির প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক বলেন, ”বিজেপি এখন এসআইআর করে আপনার ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে। “কাল মানুষ যাতে বাড়ি থেকে বেরোতে না পারেন, তারও ব্যবস্থা করবে। এদের ছেড়ে দিলে চলবে না। বিজেপি এখন এক দেশ এক ভোটের দিকে এগোচ্ছে। তখন ভোটারদের আর কিছু বলার থাকবে না।” 

এর পরেই অভিষেকের বার্তা, বিজেপিকে আটকাতে আলিপুরদুয়ারের সাড়ে চারশোটি বুথের প্রতিটিতেই তৃণমূলকে জয়ী করতে হবে। তবেই উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়া যাবে বিজেপিকে। বাংলার শাসকদলের উদাহরণ তুলে অভিষেক বলেন, “ধরুন, দুটো মডেল। তৃণমূল এবং বিজেপি। তৃণমূলের মডেল হল, যদি আপনারা না-ও জেতান, তাদের যা কাজ করে যাবে। উন্নয়ন থমকে থাকবে না। কিন্তু বিজেপি? উন্নয়ন থামিয়ে দেবে। ২০২১-এর নির্বাচনে হারের পর বিজেপি বাংলার সঙ্গে বঞ্চনা করছে। ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা আলিপুরে গত বিধানসভায় ৫টি আসনেই হেরেছি, কিন্তু একজন মা, বোন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পায়নি, দেখান আমাকে। কিন্তু বিজেপি হারার পর সব প্রকল্পের টাকা আটকে দিয়েছে। এটাই ওদের সঙ্গে আমাদের ফারাক। ১৬-এর নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন চা বাগান খুলবে, ১০ বছরে খোলা দূরে থাক চা বাগানে নোটিশ পর্যন্ত পায়নি।”
আরও খবর: অভূতপূর্ব: জনসভায় দাঁড়িয়ে জনতার সমস্যা শুনে বাস্তবসম্মত সমাধান বাতলে দিলেন অভিষেক

আলিপুরদুয়ারের (Alipurduwer) মানুষের কাছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বার্তা, “ইডি, সিবিআই, সিআরপিএফ, জুডিশিয়ারি, ইনকাম ট্যাক্স যা খুশি লাগাও। জিতবে বাংলাই। এই জয়ে আলিপুরদুয়ারকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। পাঁচ আসনেই জিততে হবে। এই জায়গা মহকুমা ছিল তাকে জেলা করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। এটা সম্ভব করতে হবে। বাংলাকে জেতাতে হবে। তৃণমূল থাকলে বিরোধীরা কুপোকাত, ঘরে ঘরে দু মুঠো ভাত। কী চান তা আপনাদের বেছে নিতে হবে।”

–

–

–

–


