Thursday, May 28, 2026

কমিশনের FIR চাপ: শুনানির আগে মৃত্যু BLO-র, প্রাণ গেল ভোটারেরও

Date:

Share post:

ভোটার তালিকায় গরমিলের দায় নিয়ে কমিশনের কোপে রাজ্যের তিন সরকারি আধিকারিক। নির্বাচন কমিশনের কারচুপির অভিযোগ যত প্রকাশ্যে তুলে ধরছে বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস, তত সরকারি কর্মীদের উপর চাপ প্রয়োগের নীতিতে ঝুঁকছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। ফলে কতখানি চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে বিএলও-র (BLO) দায়িত্বে থাকা রাজ্য সরকারি কর্মীদের, তার প্রমাণ মিলল শনিবারই। শুনানির (hearing) ডিউটির আগেই কমিশনের চাপের আশঙ্কায় প্রাণ গেল কোচবিহারের (Coochbihar) বানেশ্বরের এক স্কুল শিক্ষকের। অন্যদিকে, শুনানির পরে আদৌ ভোটার তালিকায় নাম থাকবে, না ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে, সেই দুশ্চিন্তাও জারি ভোটারদের মধ্যে। সেই চিন্তায় এবার প্রাণ গেল হুগলির (Hooghly) রিষড়ার ৮৫ বছরের এক বৃদ্ধের।

বিরোধী দলনেতা রাজ্যে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বিহারের উদাহরণ তুলে ধরে রাজ্যের বিএলও-দের হুমকি দিচ্ছিলেন। এবার দুই জেলার তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়েরের নির্দেশের পরে নতুন করে আতঙ্ক বিএলও-দের মধ্যে। কোচবিহারের বানেশ্বরের পূর্ব গোপালপুর চতুর্থ পরিকল্পনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন তিনি। কোচবিহার উত্তর বিধানসভার ইচ্ছামারি এলাকার ৩/১০৩ নম্বর বুথের বিএলও-এর (BLO) দায়িত্বে ছিলেন শিক্ষক আশিস ধর। শনিবার সেই বুথের ৩৯ জন ভোটারের শুনানি (hearing) ছিল। তার আগে শুক্রবার রাতে মানসিক চাপে অসুস্থতার পরেই মৃত্যু হয় আশিস ধরের, দাবি পরিবারের।

শুক্রবার রাতের ঘটনা বর্ণনা করে পরিবারের সদস্যদের দাবি, রাতে একটা ফোন এসেছিল এবং শুনানি বিষয়ে বেশ কিছুক্ষণ ফোনে কথা হয়। আর তারপর থেকেই তিনি অস্বাভাবিক ঘামতে শুরু করেন। আর কিছুক্ষণ পরেই অসুস্থ হলে চিকিৎসককে ডাকা হয়। পরীক্ষা করার পরে তাঁকে মৃত বলে জানান চিকিৎসকরা। এদিন খবর পেয়েই মৃতের বাড়িতে যান কোচবিহারের তৃণমূল জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক। মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে সরব হন তিনি। পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। অভিজিৎ দে ভৌমিক জানান, তিনি পরিবারকে দুশ্চিন্তার কথা বারবার বলেছিলেন । তাঁর মাকেও বলেছিলেন এত চাপ নিতে পারছিলেন না, সেই কথা।

অন্যদিকে এসআইআর-এর শুনানি পর্বে আরও এক বৃদ্ধ ভোটারের মৃত্যুর ঘটনা। শনিবার মৃত্যু হল হুগলির রিষড়ার (Rishra) বাসিন্দা ধনঞ্জয় চতুর্বেদীর। পরিবারের অভিযোগ তিনি চিন্তিত ছিলেন। তিনি অসুস্থ ছিলেন। শুনানিতে কোথায় যেতে হবে, কি করে যাবেন, নাম বাদ গেলে কি হবে এসব নিয়ে চিন্তা তাঁকে ঘিরে ছিল। তাই তাঁর মৃত্যুতে কমিশনের এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকেই দায়ী করেছে তাঁর পরিবার।

আরও পড়ুন : নির্বাচনের আগেই বিজেপি জোটের ৬৮ প্রার্থী জয়ী! মহারাষ্ট্রে তদন্তের নির্দেশ কমিশনের

মৃতের ছেলে রাজেন্দ্র চতুর্বেদী দাবি করেন,বাবা বড় বাজারে একটি স্কুলে চাকরি করতেন। আমরা রিষড়ার বাসিন্দা প্রায় আশি বছরের। বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। বাড়িতেই শয্যাশায়ী হয়েছিলেন। তবে খবর রাখতেন এসআইআর-এর। গত ২৯ ডিসেম্বর বিএলও শুনানির নোটিশ দিয়ে যায়। তারপর থেকেই বাবা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। আমাকেও পাঁচ তারিখে ডেকেছে।

Related articles

বিএসএফ-এর হাতে আরও জমি হস্তান্তর রাজ্যের: জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

সীমান্তবর্তী জেলাগুলি থেকে প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফ-এর হাতে হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর...

IPL: ব্যাটিং তাণ্ডবে নয়া রেকর্ড বৈভবের, হায়দরাবাদকে হেলায় হারাল রাজস্থান

আইপিএলে(IPL) সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে এলিমিনেটরে খেলতে নেমেছিল রাজস্থান রয়্যালস। এই ম্যাচে  ৪৭ রানে জয় পেল রাজস্থান। তবে দলের...

শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী: পরিচালক অনীক দত্তের অন্তিম যাত্রা বৃহস্পতিবার

দৃঢ়চেতা পরিচালক অনীক দত্তের আচমকা প্রয়াণে শোকস্তব্ধ টলিউড। তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তদন্তে নেমেছে লালবাজারের হোমিসাউড শাখা।...

কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো থেকে আইনি লড়াই, রবিবার কালীঘাটে দিকনির্দেশ দেবেন মমতা

রবিবার পরিষদীয় দলের বৈঠক হবে কালীঘাটে। এই বৈঠকে পরবর্তী দিকনির্দেশনা দেবেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুদিন ধরেই কালীঘাটের বাসভবনে...