বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একের পর এক চমক। শনিবার, পুরনো দল কংগ্রেসে ফিরলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ গণিখানের ভাগ্নি মৌসম বেনজির নূর (Mousom Benajir Noor)। এদিন, দিল্লিতে কংগ্রেসের (Congress) সদর দফতরে গিয়ে ফের হাতে ফিরলেন মৌসম। তবে, সাংবাদিক বৈঠকেও তৃণমূল (TMC) সম্পর্কে কোনও নেচিবাচক মন্তব্য করেননি মৌসম। 

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, প্রদেশ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক গুলাম আহমদ মীর এবং মালদহ দক্ষিণের সাংসদ ইশা খান চৌধুরীর উপস্থিতিতে কংগ্রেসে যোগ দেন মৌসম। তবে, পুরনো দল তৃণমূল নিয়ে কোনও রকমের নেতিবাচক মন্তব্য করেননি তিনি। বলেন, “কংগ্রেস (Congress) দলকে আবারও তাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই। আমি ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেছি। আমি তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা দিদির কাছে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি এবং সোমবার রাজ্যসভা থেকেও পদত্যাগ করব। তাই, আজ আমি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছি। দলকে শক্তিশালী করার জন্য আমি কঠোর পরিশ্রম করব কারণ বাংলার মানুষ, মালদার মানুষ, কংগ্রেসে বিশ্বাস করে, তারা ধর্মনিরপেক্ষতা, উন্নয়ন এবং শান্তির কংগ্রেসের আদর্শে বিশ্বাস করে” 

মৌসম কংগ্রেসে ফিরে আসার পর সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর দাদা ইশা খান চৌধুরী বলেন, “ওঁর রক্তে কংগ্রেস রয়েছে। অন্য দলে যাওয়ার ফলে আমাদের পরিবারের মধ্যেও বিভাজন তৈরি হয়েছিল। আজকে সব বিভাজন ঘুচে গেল।” 
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বলেন, “গনি খান চৌধুরী ছিলেন কংগ্রেসের একজন স্তম্ভ। ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন। গনি খান চৌধুরী একসময় কয়লা মন্ত্রকে ছিলেন। তাঁর আমলে তিনি যে কাজ করেছেন তা প্রশংসনীয়। আমি আনন্দিত যে দু’বারের সাংসদ এবং প্রাক্তন যুব কংগ্রেস সভাপতি মৌসুম নূর ঘরে ফিরে এসেছেন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ চায় কংগ্রেস আরও শক্তিশালী হোক। আমরা তাঁদের প্রত্যাশা পূরণের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।”

২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতীকে মালদা উত্তরে জয়ী হয়েছিলেন মৌসম। ২০১৪ সালেও তিনি সেই দলে থেকেই লোকসভায় জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছিলেন। ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি লোকসভা নির্বাচনের আগে হঠাৎ করে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন প্রয়াত কংগ্রেস নেতা গনি খান চৌধুরীর ভাগ্নি মৌসম। সেই লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে মালদা উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। কিন্তু বিজেপির খগেন মুর্মুর কাছে তিনি পরাজিত হন। যদিও তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করা হয়েছিল তৃণমূলের তরফে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে লোকসভায় প্রার্থী করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে শোনা যায়, দলের সেই সিদ্ধান্তে অখুশি ছিলেন মৌসম।

–

–

–

–

–


