যে পদ্ধতিতে রাজ্যে তথা গোটা দেশে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তার জন্য যেভাবে হয়রান হচ্ছেন রাজ্যের মানুষ, তাতে ফের সরব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে দুবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (GYanesh Kumar) চিঠি লিখেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। এবার তৃতীয় চিঠিতে সেই দুটি চিঠি নিয়ে কমিশন যে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ নেয়নি, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এমনকি রাজ্যের জেলা শাসকদের মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, রাজ্য প্রশাসনের দেওয়া বাসস্থানের সংশাপত্র (domicile certificate) গ্রহণ করা হবে না। গোটা প্রক্রিয়ায় একাধিক সমস্যা তুলে ধরে ভুল সংশোধনের দাবি জানালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরে প্রথম ২০ নভেম্বর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে বিএলও মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদা জানানোর পাশাপাশি এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ২ ডিসেম্বরও একটি চিঠি লেখেন। প্রায় একমাস পরে ৪ জানুয়ারির চিঠিতে সেই দুটি চিঠির উল্লেখ করেই মমতার অভিযোগ, আগের অভিযোগগুলির প্রেক্ষিতে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে ঠেলে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ফের একবার অপরিকল্পিত এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী চিঠিতে দাবি করেন, এত বড় সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কমিশন কোনও প্রশিক্ষণ ছাড়াই আধিকারিক থেকে রাজ্যের নির্বাচন কমিশন দফতরগুলিকে মাঠে নামিয়ে দিয়েছে। ফলে শুধুমাত্র বাংলা নয়, গোটা দেশেই এই প্রক্রিয়ার সময় সীমা নিয়ে কোনও স্পষ্ট ধারণা দিতে পারছে না কমিশন। পদক্ষেপে স্বচ্ছতা ও সামগ্রিকতা না থাকায় এক একটি রাজ্য এক এক পন্থা ও সময় ধরে কাজ করছে।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী গুরুতর অভিযোগ তুলে দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা প্রায় রোজই নতুন নতুন জারি করা হচ্ছে। আশ্চর্যজনকভাবে সবই হোয়াটসঅ্য়াপ মেসেজের (Whatsapp message) মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। তার কোনও লিখিত নির্দেশিকা বা বিজ্ঞপ্তি জারি হচ্ছে না। এর ফলে যে কাজ হচ্ছে, তাতে ভুল থেকেই যাচ্ছে। যার জন্য বৈধ ভোটারদের (legitimate voter) নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া অবশ্যম্ভাবী হয়ে দাঁড়াচ্ছে। একইভাবে অস্বচ্ছতা তৈরি হচ্ছে শুনানি পর্যায়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির বিএলএ-দের থাকতে না দেওয়ার ঘটনায়। যেখানে নির্বাচন কেন্দ্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য দলীয় এজেন্টদের রাখা হয়, সেখানে শুনানির স্বচ্ছতা তাঁদের বাদ দিয়ে কীভাবে থাকবে, প্রশ্ন মমতার।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে এসআইআর প্রক্রিয়া চালানোর সফটওয়্যার নিয়েও গুরুতর অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর চিঠিতে। কীভাবে তথ্য প্রযুক্তির ভুল প্রয়োগে কমিশন দফতরের ভিতর থেকেই ভোটারদের নাম মুছে দেওয়া হচ্ছে। নাম মুছে যাওয়ার বিষয়ে জানতে পারছেন না ইআরও-রাও। কমিশনের নির্দেশে কোনও বেআইনি, হঠকারিতামূলক ও পক্ষপাতদুষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার দায় কমিশনেরই থাকবে, স্পষ্ট করে দেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

বিহারের এসআইআর প্রক্রিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে বাংলার প্রতি পক্ষপাতের প্রশ্নও তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, যে নথিগুলিকে নাগরিকদের ভোটাধিকারের জন্য বিহারে গ্রহণ করা হয়েছে, সেই নথিই বাংলায় গ্রহণ করা হচ্ছে না। মৌখিক ও হোয়াটসঅ্যাপ নির্দেশের মধ্যে দিয়ে বাসস্থানের সংশাপত্র গ্রহণ না করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। যেভাবে বাসস্থানের সংশাপত্র বিহারের এসআইআরের (Bihar SIR) সময়ে গ্রহণ করা হয়েছিল তা বাংলার ক্ষেত্রে গ্রহণ করা হচ্ছে না। রাজ্যের প্রশাসনের তরফে জারি করা বাসস্থানের সংশাপত্র (domicile certificate) গ্রহণ করা হচ্ছে না।


শুনানি প্রক্রিয়া নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোটারদের আগাম জানানো হচ্ছে না কেন যে তাঁদের ডাকা হচ্ছে, কোন নথি লাগবে বা শুনানির পরে কোনও স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না। বহু ক্ষেত্রে প্রবীণ, অসুস্থ মানুষদেরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে শুনানিতে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। বিকেন্দ্রীকৃত শুনানি হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমত বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত অবজারভার প্যানেল উপেক্ষা করে অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছে এবং মাইক্রো অবজারভারদের অনেকেরই এই সংবেদনশীল কাজের অভিজ্ঞতা নেই।

As India’s democracy faces a defining moment, Hon’ble CM Smt. @MamataOfficial has stepped forward as its strongest defender. In a hard-hitting letter to CEC Gyanesh Kumar, she has exposed the disturbing bias and chaos in the SIR process:
• An alarming and unexplained haste in… pic.twitter.com/6MBHcEPhs8
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) January 4, 2026
–



