তাঁর আমলে গঙ্গাসাগরের প্রভূত উন্নতি হয়েছে। বারবার সেখানে যান পুণ্যার্থীরা। সোমবার, গঙ্গাসাগর সেতুর (Gangasagar Bridge) শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তার পরে যান ভারত সেবাশ্রম সংঘ ও কপিলমুনির আশ্রমে। আর সেখানেই তাঁকে দেখে “জয় বাংলা” স্লোগান দেন নাগা সন্ন্যাসীরা।

আগে ছিল, সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আমলে হয়েছে, গঙ্গাসাগর বারবার। তবে, মুড়িগঙ্গা নদীর উপর সেতুর অভাবের কথা বারবার বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রের কাছে সেতু তৈরির দাবিও জানিয়েছেন। কিন্তু কুম্ভমেলাকে জাতীয়মেলা ঘোষণা করা হলেও, এখন গঙ্গাসাগরকে সেই মর্যাদা দেয়নি কেন্দ্র। সেই কারণে রাজ্যের তরফেই সেতু তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন সেতুর শিলান্যাস অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রথমেই আমি বলতে চাই যে আজ আমি বাংলার মানুষের জন্য, দেশ-বিদেশ থেকে আসা লক্ষ লক্ষ পর্যটক, তীর্থযাত্রী, গঙ্গাসাগর এবং সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য গর্বিত। আমরা শুধু বলি না, কাজে করে দেখাই। এই গঙ্গাসাগর সেতুর দাবি অনেকদিনের, তা আজ পূরণ হতে চলেছে। মানুষকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে- শুধু নদী পারাপারের ক্ষেত্রে নয়, বন্যপ্রাণির ভয়ও তাঁদের তাড়া করত।“

মুখ্যমন্ত্রী কথায়, “আমরা এই অঞ্চলে বেশ কিছু সেতু তৈরি করেছি। বকখালি পৌঁছানো এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে, কারণ সেখানে সেতু তৈরি করা হয়েছে। আজ গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করা হল এবং এই সেতুটি তৈরি করবে L&T। রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের জন্য ১,৭০০ কোটি টাকা খরচ করছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী দুই থেকে তিনবছরের মধ্যে এই সেতুটি চালু হয়ে যাবে।“
মুড়িগঙ্গা নদীর উপর ৫ কিলোমিটার লম্বা গঙ্গাসাগর সেতুর ফোর-লেন হাইওয়ে মূল ভূখণ্ডের কাকদ্বীপের সঙ্গে কচুবেড়িয়াকে যুক্ত করবে। এর পরেই এদিন কপিলমুনির আশ্রম থেকে যখন মুখ্যমন্ত্রী বের হন, তখনই তাঁকে দেখে “জয় বাংলা” স্লোগান দেন প্রতিবার গঙ্গাসাগরে আসে নাগাসাধুরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে সুব্যবস্থা হওয়ায় আপ্লুত তাঁরাও। গঙ্গাসাগর যাওয়ার আগে বাবুঘাটেও সাধু-সন্তদের থাকার জন্যেও রাজ্যের উদ্যোগে বন্দোবস্ত করা হয়। উন্নয়নের উপলব্ধিতে “জয় বাংলা” স্লোগান সাধুদের গলায়।

–

–

–

–

–

–


