রাজ্যে ফের সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়ানোর ব্লু-প্রিন্ট? শান্তিপুরের একটি ব্যক্তিগত বিবাদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঠিক এই ছকেই বাংলাজুড়ে অশান্তি বাধানোর চেষ্টা চালালেন বিজেপির আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্য। মঙ্গলবার সকাল থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো তথ্যের উপর ভিত্তি করে ‘সনাতন ধর্মের ওপর আঘাত’ এবং ‘সংখ্যালঘু তোষণ’-এর জিগির তুলে মেরুকরণের তাস খেলেন তিনি। কিন্তু দিনশেষে পুলিশের হাতে আসা তথ্য আর সিসিটিভি ফুটেজে মালব্যর সেই সাজানো স্ক্রিপ্ট কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল।
ঘটনার সূত্রপাত নদিয়ার শান্তিপুরে। মৃৎশিল্পী জয়ন্ত দাসের কারখানায় বেশ কিছু প্রতিমা ভাঙচুর করে দুই দুষ্কৃতী। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ এবং পুলিশের কাছে জমা পড়া অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্তদের নাম অমিত দে এবং অসিত দে। ব্যক্তিগত আক্রোশ আর পুরনো শত্রুতার জেরেই তারা এই হামলা চালায়। এখানে কোনও সাম্প্রদায়িক ছোঁয়াচ তো দূর অস্ত, অভিযুক্ত ও অভিযোগকারী উভয় পক্ষই একই সম্প্রদায়ের মানুষ।
অথচ এই সাধারণ অপরাধমূলক ঘটনাকেই সুকৌশলে সাম্প্রদায়িক রঙ মাখিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় উস্কানি দেন অমিত মালব্য। দাবি করেন, এটি নাকি হিন্দুদের ওপর পরিকল্পিত হামলা। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে উন্নয়নের পালটা না দিতে পেরে এখন ধর্মের নামে অশান্তি বাধানোই দিল্লির নেতাদের শেষ অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্যের যাচাই না করেই এহেন উস্কানিমূলক টুইট আসলে সুপরিকল্পিত ভাবে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা।
পুলিশের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ঘটনার মূলে রয়েছে ব্যক্তিগত আক্রোশ। দোষীরা শনাক্ত হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে শান্তিপুরের সাধারণ মানুষের দাবি, এই ধরনের ভুয়ো প্রচার করে যারা এলাকার শান্তি বিঘ্নিত করতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নিক প্রশাসন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মালব্যর এই উস্কানি সরাসরি সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার সামিল, যার মুখোশ খুলে দিয়েছে শান্তিপুর থানার এফআইআর।
আরও পড়ুন- প্রভাব নেই মৌসমের দলবদলের: মালদহের বৈঠকে প্রচারের দিশা দিলেন অভিষেক
_
_

_

_
_

_



