বরাবর স্পষ্টবক্তা ও গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধকারীদের বিরোধী স্বর হিসাবে তিনি পরিচিত। ৪৮ বছরের আইনজীবীর জীবনে ইতি টেনে সাধারণ মানুষকে আইনি সহযোগিতার জন্য পেশা ছাড়তেও পিছপা হননি। মনিপুর ইস্যু থেকে উন্নাও ধর্ষণ (Unnao rape) – সবেতেই সরব হতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এহেন দুষ্মন্ত দাভে (Dushyant Dave) এবার সুপ্রিম কোর্টে উমর খালিদ ও সারজিল ইমামের জামিন খারিজ (bail rejection) হওয়ায় সরব। আর সেই প্রসঙ্গেই তাঁর দাবি, গোটা দেশেই এখন বিচারপতিরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের (minority) মানুষকে জামিন দিতে ভয় পাচ্ছেন।

সুপ্রিম কোর্টে জামিনের আবেদন করেছিলেন জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (JNU) পড়ুয়া উমর খালিদ (Umar Khalid) ও সারজিল ইমাম (Sarjeel Imam)। ইউএপিএ (UAPA) ধারায় গ্রেফতার হওয়া দুজনেরই জামিনের দাবি সঙ্গত মনে করেনি শীর্ষ আদালত। পাঁচ বছর বিনা বিচারে গরাদের পিছনে থাকার পরেও তাঁরা জামিন পাওয়ার উপযুক্ত বলে মনে করেনি সুপ্রিম কোর্ট। ফলে সঙ্গী পাঁচজনের জামিন হলেও জেলের ভিতরেই উমর ও সারজিল। আর এরপরেই দেশের একটা বড় অংশ প্রতিবাদে সরব হয়। বিনা বিচারে জেলবন্দি দশার বিরোধিতা করা হয়।

একইভাবে জামিন নাকচ হয়ে যাওয়ার বিরোধিতা করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন আইনজীবী দুষ্মন্ত দাভে। তিনি দাবি করেন, খুবই হতাশা ও দুঃখের সঙ্গে বলতে মনে হচ্ছে যে সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি, যাঁদের ব্যক্তিগতভাবে আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি, তাঁরা নিজেদের কর্মজীবনের প্রতি ও সুপ্রিম কোর্টের মতো প্রতিষ্ঠানের প্রতি অপ-পরিষেবা দিয়েছেন।
তার পিছনে যুক্তি হিসাবে দাভে তুলে ধরেন, ইউএপিএ (UAPA) আইনে অপরাধীকে জেলে বন্দি রাখার অধিকার রয়েছে। আবার তেমনই আমাদের দেশে সংবিধানের ২১ নম্বর ধারায় (Article 21) বাক-স্বাধীনতাও রয়েছে। তার উপর যে ব্যক্তি পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বিনা বিচারে জেলে বন্দি রয়েছেন, তাঁর জামিনের অধিকারও রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট নিজের এই রায়ে শুধু এটুকুই নয়, আরও অনেক ভুল করেছে।

আদতে বিচারপতিদের এই ভুলের পিছনে কারণও ব্যাখ্যা করেছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী। আর সেখানেই তিনি দাবি করেছেন, গোটা দেশে বিচারপতিরা মানুষকে জামিন (bail) দিতে ভয় পাচ্ছেন। বিশেষত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের (minority) মানুষদের।

আরও পড়ুন : মিলল না জামিন: উমর খালিদ, সারজিল ইমাম বাদে বাকিদের জামিনের সুপ্রিম নির্দেশ

ফলে উমর খালিদ বা সারজিল ইমামের জামিন নিয়ে দাভে জানাচ্ছেন, কোনও আশার আলো দেখতে পাচ্ছি না। সুপ্রিম কোর্ট আদৌ তাদের জামিন দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত নেবে কি না, তা নিয়ে কোনও আলো দেখতে পাচ্ছি না। যদি সুপ্রিম কোর্ট এক বছর সময় পরে তাদের জামিন দেয়, তবে আজই নয় কেন?

–

–

–


