বর্তমান প্রজন্ম বই পড়তে ভালোবাসে না’—এই প্রচলিত ধারণাকে কার্যত চ্যালেঞ্জ জানাল চারিগ্রাম রামকৃষ্ণ মিশন আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়। সোমবার সকালে স্কুলের মাঠে আয়োজিত বইমেলায় (School Book Fair) ছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, প্রান্তিক ছাত্রীদের বইয়ের প্রতি ভালোবাসা আজও অমলিন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নীতা দে এবং তাঁর সহকর্মী শিক্ষিকাদের উদ্যোগে আয়োজিত হয় এই বইমেলা। সহযোগী হিসেবে পাশে ছিল লেখিকা প্রিয়াঙ্কা ঘোষের প্রতিষ্ঠান প্রেরণা পাবলিশার্স। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৃষ্টিহীনতার প্রতিবন্ধকতাকে জয় করা লেখক ও রবীন্দ্র গবেষক অনুপম দাস।

প্রসঙ্গত, এই স্কুলের বেশিরভাগ ছাত্রীই আর্থসামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তান। রিকশাচালক, দিনমজুর কিংবা গৃহসহায়িকার কাজ করে যাঁরা সংসার চালান, তাঁদের পরিবারের পক্ষে বাচ্চাদের জন্য অতিরিক্ত খরচ বহন করা সহজ নয়। তবুও বইমেলা শুরু হতেই ছাত্রীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। ভূতের গল্প, সায়েন্স ফিকশন, ডিটেকটিভ কাহিনি, মনীষীদের জীবনকথা, ছড়া-কবিতা থেকে শুরু করে উপন্যাস—বিভিন্ন ঘরানার বই ঘিরে ছিল প্রবল আগ্রহ। আরও পড়ুন: রাজ্যে শীতল দিনের শুরু: কুয়াশায় দাপটের দোসর পারদ পতন

শিক্ষিকাদের আগাম অনুরোধে কাজ ফেলে মেলায় হাজির হন কয়েকজন অভিভাবকও। ছাত্রী ও অভিভাবকদের আর্থিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে প্রায় সব বইতেই দেওয়া হয় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়। তবুও যেসব ছাত্রী বই পড়তে আগ্রহী হলেও অর্থের অভাবে বই কিনতে পারেনি, তাঁদের নিজের উদ্যোগে বই কিনে উপহার দেন প্রধান শিক্ষিকা নীতা দে।
এছাড়াও ছড়া ও কবিতার বই কেনা ছাত্রীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেয় প্রেরণা পাবলিশার্স। তাদের আবৃত্তি প্রকাশনা সংস্থার ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচার করার প্রতিশ্রুতি দেন প্রকাশনার কর্ণধার, যা ছাত্রীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ জাগায়। পাড়ায় পাড়ায় চলতে থাকা বইমেলার মরশুমে এই বইমেলা ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকম। যেখানে কেনাবেচার হিসাবের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছিল বইয়ের প্রতি ভালোবাসা এবং পড়ার আনন্দ—সেই দৃষ্টান্তই স্থাপন করল চারিগ্রামের এই ছোট্ট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ।

–

–

–

–

–



