রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না বলে আশ্বাস দিল নির্বাচন কমিশন। একসঙ্গে পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হলেও পশ্চিমবঙ্গের প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় বাহিনী পাওয়া যাবে বলে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভোটপর্বে প্রায় পঁয়ত্রিশ হাজার রাজ্য পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলেও রাজ্য সরকার লিখিত ভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে।

নির্বাচন পরিচালনা এবং বাহিনী মোতায়েন সংক্রান্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে জরুরি বৈঠকে যোগ দেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। দু’দিনের বৈঠক শেষে রাজ্যে ফিরে তাঁর বক্তব্য ও ইঙ্গিত থেকে প্রশাসনিক মহলে জোরাল হয়েছে ধারণা—এ বার সম্ভবত এক দফাতেই বিধানসভা নির্বাচন করানোর পথে এগোচ্ছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় হল ভোটার তালিকা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চলছে। সেই কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই কমিশন নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশ করে ভোটপর্বের রূপরেখা জানাবে। কমিশন সূত্রের দাবি, এই মুহূর্তে ভোটকর্মীর কোনও ঘাটতি নেই। বরং সাম্প্রতিক অতীত এবং গত প্রায় পনেরো বছরের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে কমিশন প্রায় সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, এক দফাতেই ভোট করানো সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশের ভূমিকা মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, আর ভোটগ্রহণ ও নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব সামলাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
নির্বাচন কমিশনের একাংশের মতে, বর্তমানে হাতে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে এক দফায় রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সম্ভব। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যেখানে প্রায় এক হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে বলেও কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসার আনন্দ কুমার কমিশনকে লিখিত ভাবে জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় রাজ্য পুলিশের মোট কত জন সদস্য মোতায়েন করা যাবে। সেই সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে কম হওয়ায় কমিশন সর্বাধিক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দিকেই ঝুঁকছে বলে জানা গিয়েছে। শূন্য থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পুরো ভোট প্রক্রিয়াই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক মহলের মতে, সম্প্রতি কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে যে নিরাপত্তা মডেল অনুসরণ করা হয়েছিল, সেই ব্যবস্থাই বড় পরিসরে প্রয়োগ করা হতে পারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে। অতীতের অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন অসুবিধার কথা মাথায় রেখেই কমিশন এই সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে বলে ধারণা। সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন কবে নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে, সেদিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর। তবে কমিশনের শীর্ষ মহলের ইঙ্গিত অনুযায়ী, এ বার পশ্চিমবঙ্গে এক দফাতেই বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা ক্রমশই জোরাল হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন- আউটরাম ঘাট থেকে মেলার সূচনা! বৃহস্পতিবার গঙ্গাসাগর মেলা ট্রানজিট পয়েন্টের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী

_

_

_
_


