Thursday, April 2, 2026

হয়রানি পর অসুস্থ-প্রবাসীদের শুনানিতে ছাড় কমিশনের: তৃণমূলের লড়াইয়ের সুফল

Date:

Share post:

এসআইআর চাপিয়ে নির্বাচন কমিশনকে হাতিয়ার করে বাংলার বৈধ ভোটারদের নাম বিপুল পরিমাণে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করেছিল বিজেপি। আদতে সেই চক্রান্ত ব্যর্থ হওয়ায় নতুন হাতিয়ার এসআইআর শুনানি। আর সেই শুনানির (SIR hearing) নামে যেভাবে বাংলার মানুষকে হেনস্থা চালিয়ে যাচ্ছিল কমিশন বারবার তার প্রতিবাদে কলকাতা থেকে দিল্লিতে সরব হয়েছে বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। অবশেষে সেই প্রতিবাদের জেরে এসআইআর শুনানিতে সশরীরে হাজিরার (personally appearing) নিয়মে বদল আনতে বাধ্য হল কমিশন (Election Commission)। কমিশনের এই সিদ্ধান্ত আদতে বাংলার মানুষের জয়, দাবি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের।

শুক্রবারই নির্বাচন কমিশনের সিইও দফতরের (CEO Office) তরফে নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়, পরিযায়ী শ্রমিক থেকে পড়াশোনা ও চিকিৎসার জন্য যাঁরা বাইরে রয়েছেন তাদের শুনানির জন্য সশরীরে হাজিরা দিতে হবে না। শুনানিতে সশরীরে হাজিরার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় সরকারি কর্মী, এনআরআই বা রাজ্যের বাইরে থাকা বেসরকারি কর্মী, সেনাবাহিনীতে কর্মরতদেরও। দেরিতে হলেও কমিশনের বোধোদয়ে স্বস্তিতে বাংলার সাধারণ মানুষ।

বাস্তবে যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন, তা যে কতখানি অপরিকল্পিত, তা প্রমাণ করেছে এই ঘটনা আবারও। সাধারণ মানুষের হয়রানি, মৃত্যু এসআইআর-এর শুনানি পর্বেও অব্যাহত। অথচ সব দেখেও চোখ বুঁজে ছিল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূলের তরফে সিইও দফতরে সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ করার জন্য দরবার করা হয়েছিল একাধিকবার। অবশেষে সেই দাবিকে মান্যতা দিল কমিশন।

আরও পড়ুন : বিদেশে থাকা ভোটারদের জন্য এসআইআরের শুনানিতে ছাড় ঘোষণা কমিশনের 

সাধারণ মানুষের দাবি এবং সেই দাবিতে তৃণমূলের আন্দোলন। তার জেরেই কমিশনের এই পদক্ষেপ বাংলার মানুষের জয়, দাবি রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার (Shashi Panja)। তিনি জানান যে, নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর ফর্ম ফিলাপের জন্য আত্মীয়কে অনুমতি দিচ্ছে কমিশন। সেই কমিশনই শুনানির জন্য আনম্যাপড বা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির জন্য নোটিশ পাঠানো ব্যক্তিদের সশরীরে হাজিরা নির্দেশ দিচ্ছে। এর ফলে ব্যাপকভাবে হেনস্থার শিকার হচ্ছিলেন বহু মানুষ। তাঁদের দাবি নিয়েই বারবার তৃণমূল কংগ্রেস সিইও দফতরে দরবার করে। আবেদন জানায়, এঁদের শুনানির জন্য তাদের আত্মীয়দের উপস্থিত হওয়ার আবেদন গৃহিত হোক। অবশেষে সেই দাবিতে মান্যতা কমিশনের (Election Commission)। বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় থাকবেই। এই জয় তৃণমূলের। এই জয় বাংলার মানুষের।

Related articles

কমিশনের নির্দেশে রদবদল! সরলেন মালদহের কমিশনার, দায়িত্বে গুলাম আলি আনসারি

বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই রাজ্যে একাধিক প্রশাসনিক পদে রদবদল শুরু করেছিল নির্বাচন কমিশন। গত কয়েক সপ্তাহে শীর্ষ...

মালদহ-কাণ্ডে নবান্নের তৎপরতায় সন্তুষ্ট কমিশন, আইনশৃঙ্খলায় কড়া নজর রাজ্যের

মালদহের কালিয়াচকের সাম্প্রতিক অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক সারলেন মুখ্য নির্বাচন...

অন্নদাত্রীর শেষযাত্রায় মৃতাকে জড়িয়ে রইল বানর, চোখ ভিজলো নেটপাড়ার

ভালবাসা কখনও অসহায় কখনও আবার বড়ই শক্তিশালী। আসলে শব্দটার অনুভব এতটাই আন্তরিক, যে তা খুব সহজে হৃদয় ছুঁয়ে...

IPL: ভোট মরশুমেও হাউসফুল ইডেন, নিরাপত্তার বাড়তি কঠোরতা

  ভোটের ভরা বাজারেও হাউসফুল ইডেন । চলতি মরশুমে প্রথমবার ঘরের মাঠে খেলতে নামলো কেকেআর। প্রতিপক্ষ সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। বাংলা...