গণতন্ত্রে মানুষ নিজের সরকার নির্বাচন করে। আর বিজেপির চক্রান্তে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োগ করে এবার বিজেপির স্বৈরাচারী সরকার ভোটার বেছে নেওয়ার খেলা শুরু করেছে। বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম থেকেই এই তথ্য তুলে ধরে কমিশনের ভোট চুরির খেলা ফাঁস করেছে। তবে এবার আন্দোলন আরও জোরালো হবে। তাই তৃণমূল নেত্রীর ডাক এবার আন্দোলন হবে দিল্লির নির্বাচন কমিশন দফতরে (EC Office, Delhi)। আর কমিশনের কারচুপি বন্ধ করে দিল্লির বিজেপি নেতৃত্বের ভোট চুরি বন্ধ করার মধ্যে দিয়ে দিল্লিতে বিজেপি শাসনের অবসানের ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

কীভাবে নির্লজ্জের মতো নির্বাচন কমিশন মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে, তা আগে বিভিন্নভাবে প্রমাণ করে দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। এবার নতুন ভোটারদের ভোটাধিকার চুরির তথ্য তুলে তিনি দাবি করেন, ২০০২-এর পরে যারা জন্মেছে বলছে অনলাইনে ফর্ম ফিলাপ করো। আপনারা করে দিচ্ছেন ফর্ম সিক্স। কিন্তু ভিতরে ভিতরে সিদ্ধান্ত হচ্ছে চার নম্বর ফর্ম ফিলাপ না করলে আপনার নামটা কেটে দেবে। কারণ বিজেপির দর্পণ ওই ভ্যানিসবাবু। ভ্যানিসবাবু দেড় কোটি ভোট কাটার দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। আর নিজের মেয়ে জামাইকে ডিএম বানিয়েছে। নির্লজ্জ।

আর এই সব ষড়যন্ত্রের পিছনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar, CEC)। যেভাবে তিনি এখন বিজেপির নির্দেশে জ্ঞানেশ কুমার কাজ করছেন, তার পরিণতি নিয়েও মমতা হুঁশিয়ারি দেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ক্ষমতায় আসার পর সবার নাম কেটে তিনি ভোটে জেতাবেন বিজেপিকে। কিন্তু তারপরে তুমি কোথায় থাকবে বাবা? যেখানেই থাকি তোমায় খুঁজে বের করব। এখানে পুঁতলে দিল্লিতে গিয়ে জন্মাব। আর দিল্লিতে পুঁতলে এখানে এসে জন্মাব। এটা বাংলার মাটি মনে রাখবেন।
শুধুমাত্র সিইসি নন। গোটা দেশে মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে গেম প্ল্যান করা বিজেপিকেই আদতে নির্বাচন কমিশনের মারফৎ বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেত্রীর হুংকার, নেক্সট ডেস্টিনেশন ইজ ইলেকশন কমিশন (Election Commission)। লড়াই করতে হবে। যাঁদের যাঁদের ক্ষমতা আছে আমার সঙ্গে যাবেন। কলকাতা থেকে দিল্লি। লড়াই হবে। খেলা হবে। বাংলা দখল করে দিল্লি দখল করতে হবে। বিজেপিকে রাখা যাবে না। দেশকে করছে শেষ, এরা হোক নিঃশেষ।


নির্বাচন কমিশনের চক্রান্ত গণতান্ত্রিক পথে রুখে দিতে বাংলার প্রতিটি পাড়া থেকে যে পন্থা নিতে হবে, তা ব্যাখ্যা করে তৃণমূল নেত্রীর নির্দেশ, বিদায় আসন্ন। পাড়ায় পাড়ায় মৃত্যু ঘণ্টা বাজিয়ে দিন। আর যাঁরা মারা গিয়েছেন তাঁদের নামের তালিকা করে এলাকায় এলাকায় টাঙান। শহীদদের শ্রদ্ধা জানান।

–

–

–

–


