ডঃ মনসুখ মাণ্ডভিয়া
ভারতের উন্নয়নের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে আজকের তরুণদের চিন্তা, কল্পনা ও নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে। কীভাবে দেশ দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে, আরও কার্যকর শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলবে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে তরুণ ভারত আজ সক্রিয়ভাবে যুক্ত। প্রশ্নটি আর তরুণদের সামর্থ্য নিয়ে নয়; প্রশ্নটি হলো, তাঁদের ভাবনাকে নীতিনির্ধারণ ও রাষ্ট্রগঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার বিশ্বাসযোগ্য মঞ্চ দেওয়া হচ্ছে কি না। ‘বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়ালগ’ (ভিবিওয়াইএলডি) সেই লক্ষ্যেই পরিকল্পিত।

বিশ্বের বৃহত্তম তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশ হিসেবে ভারতের জন্য এই যুবশক্তি শুধু জনসংখ্যাগত সুবিধা নয়, বরং একটি কৌশলগত সম্পদ। উদ্ভাবন, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তরুণদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আজকের তরুণ প্রজন্ম কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যে সীমাবদ্ধ নয়; তারা সামাজিক দায়বদ্ধতা ও বাস্তব পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায় পরিচালিত। যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রী হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময়ের অভিজ্ঞতা আমাকে বারবার এক সত্যের মুখোমুখি করেছে—যখন তরুণদের বিশ্বাস করা হয় এবং সুযোগ দেওয়া হয়, তখন তারা কেবল অংশগ্রহণ করে না, নেতৃত্ব দেয়। এই উপলব্ধি থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) আহ্বানে ২০২৫ সালে নতুন রূপে সূচনা হয় ‘বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়ালগ’ (Viksit Bharat Young Leaders Dialouge)-এর। এতে ৩০ লক্ষেরও বেশি তরুণ অংশ নেন এবং হাজারো ভাবনা জাতীয় স্তরে উঠে আসে।

এই উদ্যোগের শক্তি এর ব্যাপকতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নকশায়। শহর ও গ্রাম, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী, উদ্ভাবক ও তৃণমূল নেতৃত্ব—সবাই এখানে সমানভাবে নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ পেয়েছেন। এটি ২০৪৭ সালের উন্নত ভারতের স্বপ্নকে তরুণদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত করেছে। এই ধারাবাহিকতায় ৯–১২ জানুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে চলা ভিবিওয়াইএলডি ২০২৬ আরও বিস্তৃত পরিসরে তরুণদের যুক্ত করছে। ‘ডিজাইন ফর ভারত’ ও ‘টেক ফর বিকশিত ভারত’-এর মতো উদ্যোগ এবং প্রবাসী যুবসমাজের অংশগ্রহণ এই সংলাপকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই ‘বিকশিত ভারত কুইজ’-এ ৫০ লক্ষেরও বেশি তরুণের অংশগ্রহণ এই উদ্যোগের গভীরতা ও প্রভাবের সাক্ষ্য। আরও পড়ুন: IND vs NZ ODI: চোটের জেরে ছিটকে গেলেন পন্থ, পরিবর্ত বেছে নিলেন নির্বাচকরা
জাতীয় যুব দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তরুণদের সরাসরি মতবিনিময় এই প্ল্যাটফর্মের তাৎপর্য আরও দৃঢ় করে। এটি কেবল আলোচনা নয়, বরং নেতৃত্ব গড়ে তোলার একটি প্রক্রিয়া। ভারত যখন স্বাধীনতার শতবর্ষের দিকে এগোচ্ছে, তখন সাহসী চিন্তা, অভিযোজন ক্ষমতা ও নেতৃত্বের মানসিকতা সম্পন্ন তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। ‘বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়ালগ’ সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণের আহ্বান—যেখানে তরুণরাই সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে। যাঁদের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার আত্মবিশ্বাস ও সেবার অঙ্গীকার রয়েছে, তাঁরাই উন্নত ভারত গড়বেন। ভারতের যুবসমাজ প্রস্তুত—এবার জাতির প্রস্তুত হওয়ার পালা। (লেখক কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী)

–

–

–

–

–

–


