এবারের বইমেলায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে আর্জেন্টিনার (Argentina) খ্যাতনামা সাহিত্যিকদের কাজ ও তাঁদের কাব্যিক শক্তি। সোমবার, পাব্লিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের তরফ থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে জানান ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়, সুধাংশুশেখর দে-রা। প্রতিবছরের মতো এবারও বইমেলা (Kolkata Book Fair) বিশ্বের নানা দেশের বই, সাহিত্য, ও সংস্কৃতিকে একসাথে সম্মিলিত করবে। ২২ জানুয়ারি করুণাময়ী ময়দানে বইমেলার উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সেই দেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক গুস্তাবো কানসোব্রে এবং ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউসিনো।

বইমেলায় ২৫ জানুয়ারি উদযাপন করা হবে থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা দিবস। দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা দেশটি সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের জন্য বিশ্ববিখ্যাত। এবার সেই ছোঁয়া পাচ্ছে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। এবারে ৯টি তোরণের মধ্যে দুটি হচ্ছে আর্জেন্টিনার স্থাপত্যর আদলে। বিভিন্ন ধরনের স্টলে স্থান পাবে ছোট-বড় প্রকাশন সংস্থাগুলি, যেখানে থাকবে বাংলা-সহ বিভিন্ন ভাষার বই। বিশেষ করে বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং আধুনিক সাহিত্য সম্পর্কিত বইয়েরও বিশাল সম্ভার থাকবে পরিপূর্ণ।

কিছুদিন আগে যাঁরা প্রয়াত হয়েছেন, প্রফুল্ল রায় এবং প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের নামে থাকছে দুটি তোরণ। সাহিত্যিক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি তোরণ থাকছে তাঁর নামাঙ্কিত। লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়ন হচ্ছে কবি রাহুল পুরকায়স্থের নামে। জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে শিল্পী ময়ুখ চৌধুরীর নামে থাকবে বইমেলার শিশু মণ্ডপ। আরও পড়ুন: ফের SIR আতঙ্কে মৃত্যু বৃদ্ধার
প্রতিবছরের মতো বইমেলায় সরাসরি ও যৌথভাবে আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় অংশগ্রহণ করছে প্রায় ২০টি দেশ। এছাড়া ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত— যেমন দিল্লি, অসম, ত্রিপুরা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ভোপাল, তামিলনাডু, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, গুজরাত, মহারাষ্ট্র ইত্যাদি রাজ্যের প্রকাশনা সংস্থাও থাকছে।

বাংলার সিনেমা জগতের মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে থাকছে ‘বাংলা সিনেমার ইতিহাস ও মহানায়ক’ শীর্ষক একটি বিশেষ প্রদর্শনী। এ-ছাড়াও বইমেলায় সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে তাঁর নামাঙ্কিত একটি অডিটোরিয়াম থাকবে। সব মিলিয়ে মেলায় এবার অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১০০০ এর বেশি। এবছরই বইমেলা প্রাঙ্গণে মেট্রো রেলের মাধ্যমে হাওড়া থেকে এসপ্ল্যানেড হয়ে সরাসরি পৌঁছনো যাবে। বইমেলা প্রাঙ্গণে থাকবে মেট্রোর একটি বিশেষ বুথ যেখান থেকে অনলাইনে সরাসরি টিকিট কাটা যাবে।

আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার অ্যাপের মাধ্যমে গুগল লোকেশন মারফত মেলার মধ্যে যে কোনও স্টল খুঁজে পাওয়ার সুবিধা থাকবে। এবারও আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা সরাসরি ভার্চুয়ালি দেখা যাবে সোশ্যাল মিডিয়া পেজ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। যাঁরা বইমেলায় আসতে পারবেন না, তাঁরা ঘরে বসেই উপভোগ করতে পারবেন বইমেলার প্রধান প্রধান অনুষ্ঠান।

–

–

–

–


