সোমবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরের রানওয়ে তখন ভারী হয়ে আছে বিষণ্ণতায়। চার বছরের একরত্তি শিশু আরিয়া জানে না কী হয়েছে। কিন্তু পরিবারের লোক কফিনের সামনে নিয়ে যেতেই তার চেনা গলায় আধো উচ্চারণে ঝরে পড়ল সেই প্রিয় কথা— ‘আই লাভ ইউ ড্যাডি’। বাবা প্রশান্ত তামাংয়ের কফিন জড়িয়ে মা গীতা (মার্থা) তামাং যখন কান্নায় ভেঙে পড়েছেন, তখন ছোট্ট মেয়ের এই আকুলতা উপস্থিত সকলের চোখের কোণও ভিজিয়ে দিল। পাহাড়ের গর্ব, ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ জয়ী গায়ক প্রশান্ত তামাংয়ের শেষ বিদায় ঘিরে এমনই এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী রইল উত্তরবঙ্গ।
রবিবার দিল্লিতে নিজের বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন ৪৩ বছর বয়সী এই জনপ্রিয় শিল্পী। তাঁর মরদেহ বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছতেই ভিড় জমান অগণিত অনুরাগী ও আত্মীয়স্বজন। ২০০৭ সালে রিয়েলিটি শো জিতে গোর্খা সমাজের আত্মপরিচয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন প্রশান্ত। সেই মানুষটির নিথর দেহ ঘিরে এদিন পাহাড়ের শোক যেন বাঁধ ভাঙল। দশ বছর বয়সে নিজের বাবাকে হারিয়েছিলেন প্রশান্ত। আর তাঁর মেয়ে আরিয়া বাবাকে হারাল মাত্র চার বছর বয়সে। সম্প্রতি একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, বাবার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ‘তু মেরি জান’ গানটি গাইছে আরিয়া। এদিন সেই স্মৃতিই বারবার তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল উপস্থিত জনতাকে।
প্রশান্তের স্ত্রী মার্থা তামাং এদিন সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে স্পষ্ট করেন, ঘুমের মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে শিল্পীর। তিনি বলেন, “সারা বিশ্বের মানুষ আজ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ও খুব ভালো মানুষ ছিল, ওকে আগের মতোই ভালোবেসে মনে রাখবেন সবাই।” শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এক্স-বার্তায় তিনি জানান, ‘প্রশান্ত তামাংয়ের মতো ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-খ্যাত ও জাতীয়স্তরে পরিচিত শিল্পীর আকস্মিক প্রয়াণে আমি গভীর ভাবে শোকাহত। দার্জিলিঙের ভূমিপুত্র তিনি। একটা সময়ে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তিনি বাংলার মানুষের কাছে ভীষণই জনপ্রিয় ছিলেন। ওঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও অনুরাগীদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।’
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ অর্কেস্ট্রা থেকে কেরিয়ার শুরু করা প্রশান্ত শুধু গায়ক হিসেবেই নয়, অভিনেতা হিসেবেও সফল ছিলেন। নেপালি ছবির পাশাপাশি ‘পাতাল লোক সিজন ২’-সহ বেশ কিছু হিন্দি কাজে তাঁকে দেখা গিয়েছে। শোনা গিয়েছিল, সলমন খানের আসন্ন ছবি ‘ব্যাটল অফ গলওয়ান’-এও তাঁর অভিনয়ের কথা ছিল। কিন্তু সে সব অধরাই থেকে গেল। সোমবার বিমানবন্দরে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইন প্রমাণ করে দিল, প্রশান্ত তামাং শুধু এক গায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন পাহাড়ের এক অচ্ছেদ্য আবেগ।
আরও পড়ুন- মনোজ আগরওয়ালের ব্যক্তিগত নম্বর ভাইরাল! আইনি পথে হাঁটছেন ‘বিরক্ত’ CEO
_
_

_

_
_

_



