Tuesday, February 3, 2026

SIR আতঙ্ক কাড়ল তিন প্রাণ! বাদুড়িয়া থেকে কালিয়াগঞ্জ, জেলায় জেলায় মৃত্যুমিছিল

Date:

Share post:

শিয়রে এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন। আর সেই সংশোধনীর গেরোয় পড়ে ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় কি শেষ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক প্রাণ? উত্তর ২৪ পরগনা, উত্তর দিনাজপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুর— সোমবার রাজ্যের তিন প্রান্ত থেকে আসা তিনটি মৃত্যুর খবর ঘিরে এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে। মৃতদের পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকা এবং শুনানিতে প্রশাসনিক আশ্বাসের অভাবই ডেকে এনেছে এই মর্মান্তিক পরিণতি।

বাদুড়িয়ার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অনিতা বিশ্বাস (৭৫) গত কয়েকদিন ধরে হিয়ারিং বা শুনানির নোটিশ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। ১৯৯৫ সালের তালিকায় নাম থাকলেও ২০০২-এর নথিতে তাঁর নাম ছিল না। গত ৫ জানুয়ারি নথিপত্র জমা দিয়েও আশ্বস্ত হতে পারেননি বৃদ্ধা। পরিবারের দাবি, সেই মানসিক চাপ থেকেই ৭ জানুয়ারি ব্রেন স্ট্রোক হয় তাঁর। বসিরহাট হাসপাতালে লড়াই চালিয়ে গত রাতে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। খবর পেয়েই পাশে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি বুরাহানুল মুকাদ্দিম শাহনাওয়াজ সরদার ও স্থানীয় নেতৃত্ব।

একই ছবি উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের ধনকৈল্য হাটে। সোমবার দুপুরে হাটে বেরিয়ে আচমকাই লুটিয়ে পড়ে মৃত্যু হয় পেশায় দিনমজুর লক্ষ্মীকান্ত রায়ের (৫০)। পরিবারের দাবি, আগামী ১৯ জানুয়ারি বিডিও অফিসে শুনানিতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। ২০০২-এর তালিকায় নাম না থাকায় ভয়ে কয়েকদিন ধরে কাজও বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। স্থানীয় তৃণমূল নেতা নিতাই বৈশ্য এই মৃত্যুর জন্য সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলেছেন।এলাকার বিডিও বিদ্যুৎবরণ বিশ্বাস জানান, লোকটির হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছেন, তবে গোটা এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে।

পিছিয়ে নেই পূর্ব মেদিনীপুরও। কোলাঘাটের বরনান গ্রামের বাসিন্দা মৃত্যুঞ্জয় সরকার (৭৩) গত ৪ জানুয়ারি বিডিও অফিসে শুনানির জন্য গিয়েছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, ১৯৭১ সালের দলিল দেখালেও আধিকারিকদের কথায় ভরসা পাননি তিনি। সেই থেকে বুকে ব্যথা ও মানসিক অবসাদ শুরু হয় তাঁর। রবিবার রাতে তমলুক মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করার পর আজ সকালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

রাজ্য জুড়ে এসআইআর ঘিরে এই ‘আতঙ্ক’ এখন রাজনৈতিক চাপানউতোরের কেন্দ্রবিন্দুতে। শাসক দল তৃণমূলের দাবি, ২০০২-এর তালিকার দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে অহেতুক হেনস্থা করছে কমিশন। পাল্টা বিজেপির বক্তব্য, সরকারি প্রক্রিয়ার সঙ্গে মৃত্যুর কোনও সম্পর্ক নেই, মানুষের ভয় ভাঙানোর বদলে তৃণমূল উল্টে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। কিন্তু রাজনীতির এই দড়ি টানাটানির মাঝে বাদুড়িয়া থেকে কালিয়াগঞ্জ— কান্নার সুরটা সব জায়গাতেই এক। নথির গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খেতে খেতে সাধারণ মানুষের প্রাণ যাওয়া কি তবে দস্তুর হয়ে দাঁড়াল? উত্তর খুঁজছে আমজনতা।

আরও পড়ুন- জমজমাট ভদ্রেশ্বর গোল্ড কাপ ফাইনাল, বর্ধমান মাতালেন বাইচুং-ব্যারেটো

_

_

_

_

_

_

spot_img

Related articles

শহরতলির যানজট রুখতে উদ্যোগী নবান্ন, শুরু হচ্ছে বিশেষ সমীক্ষা

কলকাতা লাগোয়া শহরতলি এবং জেলা শহরগুলিতে ক্রমবর্ধমাণ যানজটের জাঁতাকল থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য...

টাকার অঙ্ক অনেক কম, কারা সম্প্রচার করবে ISL? জানিয়ে দিল AIFF

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে আইএসএল(ISL)। সোমবার সকালেই অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন(AIFF) লিগের মিডিয়া রাইটস সংক্রান্ত টেকনিক্যাল...

শবেবরাতে বাজি নিয়ন্ত্রণে কড়া হাইকোর্ট: রাত ১০টার পর বাজি ফাটালেই আইনি পদক্ষেপ

উৎসবের আনন্দ যেন অন্যের কষ্টের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে ফের কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট।...

গণতন্ত্র বিপন্ন! ওপার বাংলার ‘প্রহসন’ নিয়ে সরব হাসিনা-পুত্র সজীব

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রতিবাদের সুর চড়ালেন শেখ হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। সোমবার বিকেলে...