ভারতীয় সংস্কৃতিতে যৌনতা (Sex) নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে বরাবরই একটা ট্যাবু কাজ করেছে। খুব সহজ স্বাভাবিক বায়োলজিক্যাল একটা ঘটনাকে নিষিদ্ধতার পর্দা দিয়ে এমন ভাবে আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে যাতে সেই শব্দটাকে ঘিরে মানুষের মনের মধ্যে অশালীনতার ঘেরাটোপ তৈরি হয়েছে। কিন্তু ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে প্রকাশ্যে যৌনতা নিয়ে আলোচনা করে চিরাচরিত ভাবনার বুকে কুঠারাঘাত করতে যাঁর কণ্ঠ এতটুকু কাঁপেনি তিনি গল্পকার সীমা আনন্দ (Seema Anand)। আজ পডকাস্ট থেকে ইউটিউব, সম্পর্ক নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা কিংবা পরামর্শের প্রয়োজন হলেই সোশ্যাল মিডিয়ার শিরোনামে উঠে আসে লেখিকার নাম।


কে এই সীমা আনন্দ? লন্ডননিবাসী ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিখ্যাত গল্পকার, পৌরাণিক কাহিনীবিদ হলেন সীমা (Seema Anand)। এখানেই শেষ নয় তিনি যৌন শিক্ষাবিদও বটে। সম্পর্ক ও শারীরিক ঘনিষ্ঠতা থেকে শুরু করে ঠিক যে যে বিষয়গুলো নিয়ে সমাজে খোলাখুলি আলোচনা হওয়াটাকে ‘অনুচিত ‘বলে মনে করা হয়, সেই শব্দগুলোকেই অকপটে বলিষ্ঠ চিত্তে যুক্তিসহ সকলের সামনে তুলে ধরেন লেখিকা। তাই দিনে দিনে বাড়ছে তাঁর জনপ্রিয়তা। তিনি প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞান, মনোবিজ্ঞান এবং আধুনিক বোধগম্যতার মিশ্রণ ঘটিয়ে জৈবিক ইচ্ছা, সম্মতি এবং মানসিক সংযোগ সম্পর্ক নিয়ে সুস্থ কথোপকথন প্রচার করেন। যৌনতা (Sex) খুব স্বাভাবিক একটা শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। তাকে এভাবে আড়ালে রেখে কিশোর কিশোরীদের বয়সন্ধিকালের কৌতূহলের অন্যতম বিষয়বস্তু করে দেওয়ার ঘোর বিরোধী সীমা। ছোট থেকেই আর চার পাঁচটা বায়োলজিক্যাল কার্যকলাপের মতোই যদি এটাকেও সহজভাবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের মধ্যে শিক্ষা দেওয়া যায়, তাহলে সামাজিক পটভূমির বৃহত্তর চিত্রে অনেক বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন তিনি। এটা তো লুকানোর কিছু নয়, তাই সকলের সামনে এই নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত এবং যুক্তি-গ্রাহ্য আলোচনা করে একটা গোটা প্রজন্মকে নির্ভীকতার সঙ্গে কথা বলার ক্ষমতায়ন করে চলেছেন অচিরেই। বলাইবাহুল্য, এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে সীমা আনন্দ (Seema Anand) এক বিপ্লবের থেকে কম কিছু নন।


–
–

–

–

–

–

–



