ইএসআই-ভুক্ত শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা আরও মজবুত করতে জেলাশহরগুলিতে নতুন উদ্যোগ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। বেসরকারি ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসংস্থাকে যুক্ত করে একাধিক জেলায় সার্ভিস ডিসপেনসারি চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে শ্রম দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে রাজ্যের ১৩টি জেলা সদর দফতরে এই সার্ভিস ডিসপেনসারি চালু করার প্রস্তাব তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলি হল আলিপুরদুয়ার, বাঁকুড়া, বীরভূম, কোচবিহার, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, কালিম্পং, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর। প্রতিটি ডিসপেনসারি জেলা সদর এলাকাতেই পরিচালিত হবে এবং শুধুমাত্র ইএসআই-ভুক্ত শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের জন্য পরিষেবা দেবে।

দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ডিসপেনসারিগুলিতে আউটডোর চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি রাজ্যের তরফে সরবরাহ করা ওষুধ বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি ইএসআই পরিষেবা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে। সপ্তাহে ছ’দিন নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে ডিসপেনসারিগুলি খোলা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি কেন্দ্রে যোগ্য চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট ও সহায়ক কর্মী নিয়োগ করতে হবে। রোগীদের জন্য ওয়েটিং এরিয়া, কনসাল্টেশন রুম, ফার্মেসি কাউন্টার, শৌচাগার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম-সহ ন্যূনতম পরিকাঠামো নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
শ্রম দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, ওষুধ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে ইএসআই ব্যবস্থার মাধ্যমেই হবে। তবে বেসরকারি ক্লিনিক বা স্বাস্থ্যসংস্থাগুলিকেই দৈনন্দিন পরিচালনা, কর্মী নিয়োগ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিষেবার মান বজায় রাখার দায়িত্ব নিতে হবে। প্রথম পর্যায়ে এক বছরের জন্য চুক্তি কার্যকর থাকবে। পরিষেবার মান সন্তোষজনক হলে পরবর্তী সময়ে আরও এক বছরের জন্য চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এই প্রকল্পে আনুমানিক ১ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা ব্যয় হতে পারে। শ্রম দফতরের দাবি, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় ইএসআই-ভুক্ত শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও সহজলভ্য ও নিরবচ্ছিন্ন করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন- নন্দীগ্রামে অভিষেকের সেবাশ্রয় ক্যাম্পের প্রচার: তৃণমূল কর্মীদের মারধর বিজেপির

_

_

_

_

_
_


