নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) মাধ্যমে যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিরোধী দলগুলিকে হয়রান করার খেলায় মেতেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার, তা এখন বাংলার মানুষের কাছে জলের মতো স্পষ্ট। সেই ধারা জারি রেখেই বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের আরও এক সাংসদ ও আরও এক বিধায়কের কাছে এসআইআর শুনানির নোটিশ পাঠালো নির্বাচন কমিশন। এর আগেই মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একের পর এক সাংসদ অভিনেতা দেব এমনকি নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন, মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি টুটু বোসের কাছেও এসআইআর শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়। গত সপ্তাহেই রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম এবং বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী জাকির হোসেনকে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।

মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদারকে আগামী ২৮ জানুয়ারি দুপুর ১২টা থেকে আড়াইটের মধ্যে কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুলে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। ওই দিনই সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন। তাঁর ও তাঁর বাবার পদবির অমিলকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। সাংসদের দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবেই সংসদের গুরুত্বপূর্ণ দিনে তাঁকে ডেকে হয়রানি করা হচ্ছে। তাঁর আবেদন, শুনানির তারিখ পরিবর্তন করা হোক। বাপি হালদারের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি মিলেই এসআইআর-এর মাধ্যমে সংখ্যালঘু এবং তফসিলি জাতি-উপজাতির মানুষদের হেনস্তা করার চেষ্টা করছে। আরও পড়ুন: ভিড়ে অসুস্থ অনুরাগী মহিলা: নিজের গাড়িতে বসিয়ে নিজের বোতলের জল দিলেন অভিষেক

অন্যদিকে, সাগরদিঘির বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসকে শুনানির নোটিশ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে শনিবার সন্ধ্যায়। সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান পুরসভার সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলও তাঁর বাড়িতে গিয়ে নোটিশ দেন। আগামী ২৪ তারিখ দুপুর আড়াইটের সময় তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। নোটিশ পেয়ে স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিধায়ক। তাঁর কথায়, তিনি ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই ওই জেলার বাসিন্দা এবং পরিচিত নাম হওয়া সত্ত্বেও এভাবে শুনানির নোটিশ দেওয়া অযৌক্তিক।
বায়রন বিশ্বাসের দাবি, এসআইআর শুরু হওয়ার আগেই বিজেপি দেড় কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার কথা বলেছিল। সেই লক্ষ্যেই এখন নির্বাচন কমিশন বৈধ ভোটারদের নাম ছাঁটাই করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, একজন বিধায়ক হিসেবে যদি তাঁকে এই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থাটা কী হচ্ছে তা সহজেই বোঝা যায়। এই এসআইআর প্রক্রিয়াকে তিনি অনৈতিক বলে দাবি করেছেন।

–

–

–

–

–

–


