Monday, March 2, 2026

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ মানার দাবি! কমিশনের বিরুদ্ধে সরব গণমঞ্চ

Date:

Share post:

এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ফের তীব্র অভিযোগ উঠল। দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের দাবি, সংবিধান স্বীকৃত ভোটাধিকার রক্ষা বা স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির নামে আসলে একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কার্যকর করছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠকে সংগঠনের নেতৃত্ব অভিযোগ করেন, বিজেপি ও আরএসএসের প্রভাবেই বাংলাকে লক্ষ্য করে বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসুর নেতৃত্বে দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও নির্দেশাবলিকে ‘অমানবিক, অন্যায্য ও অগণতান্ত্রিক’ বলে কটাক্ষ করে। তাঁদের বক্তব্য, আধার কার্ডের মান্যতা সংক্রান্ত দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করেই নিত্যনতুন ফরমান জারি করছে কমিশন। এর ফলে সাধারণ মানুষ যেমন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তেমনই মাঠপর্যায়ে কাজ করা বিএলওদের উপরও মানসিক চাপ বাড়ছে। সংগঠনের অভিযোগ, ক্রমাগত হুমকি ও চাপের পরিবেশ তৈরি করে বিএলওদের মৃত্যুর দিকেও ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

গণমঞ্চের দাবি, নির্বাচন কমিশনের বর্তমান পদক্ষেপ কোনও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা হিসেবে বিজেপি ও আরএসএসের নামও প্রকাশ্যে আনা হয়। সংগঠনের তরফে বলা হয়, বাংলার জন্য আলাদা করে নিয়মের নামে যে একের পর এক নির্দেশ জারি করা হচ্ছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার।

সংবাদ সম্মেলনে একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরে দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ। তাদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কার্যকলাপ বন্ধ করে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ মান্যতা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে জন্মের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। রাজ্য সরকারের দেওয়া বৈধ শংসাপত্র ও পরিচয়পত্রের মান্যতা নিশ্চিত করতে হবে। বিএলওদের উপর অযথা মানসিক চাপ ও ‘কড়া ব্যবস্থা’র হুমকি বন্ধ করার পাশাপাশি শুনানির নামে নাগরিকদের হয়রানি বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়। তাড়াহুড়ো না করে দীর্ঘমেয়াদি, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধনের পক্ষেও সওয়াল করে সংগঠন। দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের বক্তব্য, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি ভোটাধিকারকে রক্ষা করাই নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হলে তার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ আরও জোরদার করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন – আইসিসির চাপ মেনে নিয়েও ভারত বিরোধিতায় অনড় বাংলাদেশ, পাকিস্তানের ইউ টার্ন!

_

_

_

_

_

_

spot_img

Related articles

ঐতিহ্যের খড়দহ: দোল পূর্ণিমার প্রাক্কালে নগর কীর্তনে মাতলেন এলাকাবাসী

সংস্কৃতির পীঠস্থান হিসেবে খড়দহের পরিচিতি দীর্ঘদিনের। সেই ধারাকে অক্ষুণ্ণ রেখে দোল পূর্ণিমা ও হোলি উৎসবের প্রাক্কালে এক বর্ণাঢ্য...

পেনশনভোগীদের জন্য বড় স্বস্তি: স্বাস্থ্য প্রকল্পে ক্যাশলেস চিকিৎসার সীমা বাড়াল রাজ্য 

রাজ্য সরকারি পেনশনভোগী ও পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসার খরচে বড়সড় স্বস্তি দিল নবান্ন। পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্পে (ডব্লিউবিএইচএস) অন্তর্ভুক্ত...

আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও মেলেনি অনুদান, ২৫ বছর পর সুবিচারের আশায় গৃহবধূ

আড়াই দশক আগের সেই অভিশপ্ত রাত আজও তাড়া করে বেড়ায় তাঁকে। ২০০০ সালে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর প্রাপ্য অনুদানের...

২০২৬-এ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট চাই, আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবী 

২০২৬-এ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের আর্জি জানিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন এক আইনজীবী। তাঁর আবেদন গ্রহণ করে...