তৃণমূলের কোনও নেতা খারাপ ব্যবহার করেন, তাহলে ‘এক ডাকে অভিষেক’-এ ফোন করে অভিযোগ জানাবেন, কিন্তু কোনও নেতার জন্য তৃণমূলের থেকে মুখ ঘোরাবেন না। বুধবার, পুরুলিয়ার (Purulia) বুধবার পুরুলিয়ার গুড়া ব্লকের লধুড়কায় চন্দ্রেশ্বর মাঠে জনসভা থেকে এই বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। একই সঙ্গে তিনি বাম বিজেপিকে নিশানা করেন। তাঁর কথায় একসময় সিপিএমের (CPIM) হার্মাদাই এখন জার্সি বদল করে বিজেপির (BJP) জল্লাদ হয়েছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে পুরুলিয়াকে সবুজময় করতে ৯-০ টার্গেট বেঁধে দিলেন তৃণমূলের (TMC) সেনাপতি। 

এদিন সভামঞ্চ থেকে অভিষেক (Abhishek Banerjee) বলেন, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে পুরুলিয়ায় শাসকদলের ফল ভালো হয়নি। কিন্তু চতুর্থবার যখন মা-মাটি-মানুষের সরকার ক্ষমতায় আসবে তখন পুরুলিয়াকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে- বার্তা দলের সর্বভারতীয় অসাধারণ সম্পাদকের> পুরুলিয়ার অতীতের কথা মনে করিয়ে অভিষেক বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে পুরুলিয়ায় শান্তি ফেরানো ৩৪ বছরের বাম আমলে পুরুলিয়ার যে পরিস্থিতি ছিল তার বদল ঘটিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিষেকের কথায়, “বাম আমলে পুলিশের এমন অবস্থা ছিল যে সকাল ১০টাতেও থানা থেকে বেরোতে ভয় পেত। আজ সেই ছবি বদলেছে”। ১৯৯৮ সালে ঝালদায় তৃণমূলের জেতা প্রধানকে সিপিএমের হাতে খুন হতে হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর কটি মাওবাদী নাশকতা হয়েছে, কজন মানুষের প্রাণ গিয়েছে?

সিপিএম-ই বিজেপি হয়েছে- তথ্য দিয়ে জানান অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, পুরুলিয়ায় যাঁরা বাম ছিলেন, তাঁরাই এখন বিজেপি। বাম আমলের ‘হার্মাদ’দেরই এখন বিজেপির ‘জল্লাদ’ বলে কটাক্ষ করে অভিষেকের মন্তব্য, “নতুন বোতলে পুরনো মদ।”

পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোর্তিময় সিং মাহাতকে নিশানা করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, “একটা ট্রেনই যদি সময়ে হাওড়া পৌঁছাতে না পারে, তা হলে এত বছরে সাংসদ কী করলেন? ট্রেন লেটের সমস্যা নিয়েও যাঁর কোনও উদ্যোগ নেই, তিনি নাকি উন্নয়নের কথা বলবেন?” অভিষেক বলেন, নির্বাচনের তিনমাসের মধ্যে পুরুলিয়ায় এই ট্রেনের লেট রান আমরা বন্ধ করবই। রাত ১০টার ট্রেনে পরের দিন ভোরে পৌঁছবে, এ জিনিস বরদাস্ত করব না।

২০১১-তে পুরুলিয়ায় তৃণমূল জয় পাওয়ার পর সেখানে বিপুল উন্নয়ন হয়। কিন্তু বিজেপি মাথাচাড়া দেওয়ার পরেই উন্নতি উন্নয়নে বাধা পরাই বলে অভিযোগ করেন অভিষেক। সেই উন্নয়নের জয়যাত্রা ফের চালু করতে তৃণমূলকে জেতানোর বার্তা দেন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বিধানসভা নির্বাচনে পুরুলিয়ার ৯টি বিধানসভা আসনে বিজেপিকে ‘শূন্য’ করার ডাক দেন তিনি। জানান, একমাস পর আবার পুরুলিয়ায় আসবেন। যে অঞ্চলে যেতে বলা হবে, সেখানেই যাবেন।

এরপরেই তৃণমূলের সেনাপতির বার্তা, ‘‘তৃণমূলের কোনও স্থানীয় পদাধিকারী যদি আপনাদের সঙ্গে কোনও রকম খারাপ ব্যবহার করেন, আপনারা ‘এক ডাকে অভিষেকে’ ফোন করে আমাকে জানাবেন। কিন্তু তাঁদের জন্য তৃণমূলের দিক থেকে মুখ ফেরাবেন না। পুরুলিয়ার মানুষের কাছে আমার এটা একান্ত অনুরোধ। আপনারা ভোট যাঁকেই দিচ্ছেন, ভোট সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুরুলিয়ার ২০২৬-এ উন্নয়নের জন্য দিচ্ছেন, এটা মনে রাখবেন।’’ অভিষেক বলেন, “আমি এক কথার ছেলে। জানি এখানকার মানুষের অনেক দাবি এখনও পূরণ হয়নি। তবে কথা দিয়ে যাচ্ছি, পুরুলিয়ার সব আসনে তৃণমূল জিতলে ৬ মাসের মধ্যে আপনাদের সব দাবি পূরণের চেষ্টা করব।”

–

–

–



