ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ নিয়ে ফের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কমিশন কেন সেই তালিকা প্রকাশ করেনি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবারও আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শনিবার রাজ্যের এক লক্ষাধিক জনপ্রতিনিধি, বিএলএ-টু এবং তৃণমূলের বুথস্তরের কর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন অভিষেক। সেখান থেকেই নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। অভিষেকের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ২৪ জানুয়ারি অর্থাৎ শনিবারের মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েত বা পুরসভা ভিত্তিক ওই তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি বহু জায়গায় নিয়ম মেনে নোটিশও টাঙানো হয়নি বলে তাঁর দাবি।

কমিশনের কাজের গতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূল সাংসদ এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে লেখেন, যে সফটওয়্যার গত ১৬ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশের মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে সাত কোটি ফর্ম যাচাই করে ‘অসঙ্গতি’ খুঁজে বের করেছিল, সেই সফটওয়্যার এখন তথ্য প্রকাশ করতে এত দেরি করছে কেন? তাঁর সওয়াল, ‘‘কমিশন আসলে কী লুকাতে চাইছে? যদি এক ঘণ্টায় অসঙ্গতি ধরা যায়, তবে তা প্রকাশ করতে দিনের পর দিন সময় লাগছে কেন?’’

এই পরিস্থিতিতে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে রাজি নয় শাসক দল। অভিষেক জানিয়েছেন, রবিবারই তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের দফতরে যাবে। সেখানে সদুত্তর না মিললে ফের সুপ্রিম কোর্টের কড়া নাড়বে জোড়াফুল শিবির। পাশাপাশি দলের কর্মীদের সতর্ক করে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’-র তালিকা প্রকাশ হওয়া মাত্রই প্রতিটি বুথে ‘ভোটরক্ষা কমিটি’ গঠন করতে হবে। বিএলএ-টু এবং বুথ সভাপতিদের এই বিষয়ে বাড়তি নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ভোটের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং তাতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা নিয়ে কমিশন ও শাসক দলের এই সংঘাত রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এখন দেখার, রবিবারের পর নালিশ নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছলে আদালতের অবস্থান কী হয়।

আরও পড়ুন – দেবের পর SIR নোটিশ প্রাক্তন সাংসদ-অভিনেত্রী মিমিকে, ডাক পেলেন মানালিও

_

_

_

_
_


