Saturday, March 28, 2026

চিকিৎসায় নিঃশব্দে ইতিহাস: পদ্মশ্রী স্বীকৃতি সরোজ মণ্ডলকে

Date:

Share post:

তিনি কখনও প্রচারের আলোয় আসতে চাননি। সারাদিন হাসপাতালের ব্যস্ততা আর রোগীদের ভিড় সামলানোই ছিল তাঁর ধ্যানজ্ঞান। কিন্তু কাজই যখন কথা বলে, তখন স্বীকৃতিও আসে মাথা নত করে। ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক যখন পদ্ম পুরস্কারের তালিকা ঘোষণা করল, তখন দেখা গেল বাংলার এক বিশিষ্ট চিকিৎসকের নাম— ডক্টর সরোজ মণ্ডল। রাজ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি এবার ভূষিত হলেন ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে।

সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে অনেক সময়েই নানা অভিযোগ ওঠে। কিন্তু এসএসকেএম হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে ডক্টর সরোজ মণ্ডল যে নজির গড়েছেন, তা কার্যত অভাবনীয়। ২০২৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দিনটি বাংলার চিকিৎসা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সেদিন তাঁর নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল মাত্র ৯ ঘণ্টায় ২২ জন রোগীর শরীরে সফলভাবে পেসমেকার বসিয়েছিলেন। এই ঘটনার পিছনে কোনও বিশ্বরেকর্ড গড়ার লক্ষ্য ছিল না, ছিল কেবল মুমূর্ষু রোগীদের বাঁচানোর অদম্য তাগিদ।

সেদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়েছিল সেই ম্যারাথন কর্মযজ্ঞ। এক মিনিটের বিরাম ছিল না। ডক্টর মণ্ডলের নেতৃত্বে কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়, শিনাথ সিংদের মতো চিকিৎসকরা একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। যখন একজনের শরীরে অস্ত্রোপচার চলছে, তখনই পরের জনের অ্যানাস্থেশিয়ার প্রস্তুতি সারা হয়ে যাচ্ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ যখন শেষ অপারেশনটি শেষ হয়, তখন দেখা যায় মোট ১৪টি ডাবল চেম্বার, দুটি আইসিডি এবং বাকি সিঙ্গল চেম্বার পেসমেকার বসানো সম্পন্ন হয়েছে।

তালিকায় থাকা রোগীদের বাইরেও সেদিন জরুরি বিভাগ থেকে আসা ৮০ বছর বয়সি এক প্রবীণ অধ্যাপককেও ফিরিয়ে দেননি ডক্টর মণ্ডল। নিজের ক্লান্তিকে তুচ্ছ করে তাঁর অস্ত্রোপচারও সফলভাবে সম্পন্ন করেন তিনি। পরবর্তীকালে এই সাফল্যের বিষয়ে সরোজবাবু জানিয়েছিলেন, তাঁদের বিভাগটি এমনিতেই খুব ব্যস্ত, তবে সেদিন পরিস্থিতিই তাঁদের ওই কাজের জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল। কোনও প্রচার নয়, দায়বদ্ধতাই ছিল আসল চালিকাশক্তি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এসএসকেএম হাসপাতালে এই সমস্ত জীবনদায়ী ব্যবস্থাপনাই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়েছিল। ফলে ২২ জন দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ নতুন জীবন পেয়েছিলেন। ডক্টর সরোজ মণ্ডলের এই পদ্মশ্রী সম্মান আসলে সেই সমস্ত সরকারি চিকিৎসকদের জয়গান, যাঁরা নিভৃতে থেকে প্রতিদিন অসাধ্য সাধন করছেন। রবিবারের বিকেলে তাঁর এই প্রাপ্তি বাংলার চিকিৎসা মহলে আনন্দের জোয়ার নিয়ে এল।

আরও পড়ুন – প্রসেনজিতের পদ্মশ্রী প্রাপ্তিতে গর্বিত টলিউড, শুভেচ্ছা সতীর্থ থেকে অনুরাগীদের

_

 

_

 

_

 

_

 

_

Related articles

দ্বিতীয় শীতলকুচির ছক? আধাসেনার ক্ষমতা বৃদ্ধি ও SIR-এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ বাংলা পক্ষের 

রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বৈধ বাঙালির ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আধাসেনার অবাধ ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিবাদে কলকাতার...

ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থীর ‘বেআইনি’ দলীয় শিবির! কমিশনে নালিশ তৃণমূলের

নন্দীগ্রামে পায়ের তলার মাটি শক্ত নয়, বুঝে পূর্ব মেদিনীপুর থেকে উজিয়ে কলকাতার ভবনীপুরে প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Shubhendu...

প্রয়াত ‘মোহনবাগান দিদা’: ক্লাব তাবুতে চোখের জলে শেষ শ্রদ্ধা

বয়সের ভারে শরীর নুইলেও প্রাণের ক্লাব গোল করলেই যে মানুষটির মুখে চওড়া হাসি ফুটত, সেই ‘মোহনবাগান দিদা’ আর...

কর্মের রাজনীতিতে ফের জিতবে তৃণমূল: লাভপুরের সভা থেকে বিজেপিকে সরাসরি নিশানা অভিষেকের

কর্মের রাজনীতি করেই জিতবে তৃণমূল। প্রভু রামের জন্মভূমিতে বিজেপি হেরেছে। ওরা শুধু ধর্মের রাজনীতি করে। আর তৃণমূল করে...