Saturday, April 18, 2026

দ্বিতীয় শীতলকুচির ছক? আধাসেনার ক্ষমতা বৃদ্ধি ও SIR-এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ বাংলা পক্ষের 

Date:

Share post:

রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বৈধ বাঙালির ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আধাসেনার অবাধ ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিবাদে কলকাতার ধর্মতলায় বিশাল অবস্থান বিক্ষোভ করল বাঙালির জাতীয়তাবাদী সংগঠন ‘বাংলা পক্ষ’। শনিবার ধর্মতলার পিয়ারলেস হোটেলের সামনে আয়োজিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে কয়েক শত কর্মী-সমর্থক সামিল হন। তাঁদের অভিযোগ, SIR (Special Institutional Review) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে প্রকৃত ভূমিপুত্রদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে বাঙালিকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করার চেষ্টা চলছে।

বাংলা পক্ষের দাবি, প্রথমে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ রাখা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে দীর্ঘ বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার পর যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে এক বিশাল সংখ্যক বাঙালির নাম ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নাম সংশোধনের জন্য ট্রাইব্যুনালের কথা বলা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা নোটিফিকেশন জারি করা হয়নি। এই প্রক্রিয়াকে ‘বাঙালি বিদ্বেষী ও স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়ে রাজপথে সরব হন আন্দোলনকারীরা।

ভোটার তালিকা ছাড়াও, নির্বাচন পরিচালনায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় অফিসার নিয়োগ এবং আধাসেনার বিরুদ্ধে কোনো FIR করা যাবে না—এমন নির্দেশিকার তীব্র বিরোধিতা করেছে বাংলা পক্ষ। সংগঠনের নেতৃত্ব আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এর ফলে বিগত নির্বাচনের ‘শীতলকুচি’ কাণ্ডের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। আধাসেনাকে দায়মুক্ত করার এই প্রচেষ্টাকে তাঁরা ‘সামরিক আইন’ জারির চেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বাংলা পক্ষের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বাঙালির রক্তে স্বাধীন ভারতে আজ বাঙালিকে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে। শত শত বছর এই বাংলা যাদের বাসভূমি, তাদের আজ ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করা হচ্ছে। বাংলা পক্ষ এর শেষ দেখে ছাড়বে। বাঙালি হারতে শেখেনি—একটাই হবে, বাঙালিকে যতবার মারবে, বাঙালি ততবার জিতবে।”

বাংলা পক্ষের সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি আধাসেনার ক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “তদন্ত ছাড়া FIR করা যাবে না বলা হচ্ছে, তার মানে কি সামরিক আইন চালু হচ্ছে? আমরা শীতলকুচি দেখেছি, এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় আধাসেনার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ছিল। এখন ক্ষমতা বৃদ্ধির পর আরও অনেক শীতলকুচি হওয়ার আতঙ্কে আমরা দিন কাটাচ্ছি।”

আন্দোলনকারীরা জানান, SIR আতঙ্কে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ১৬০ জন বাঙালির মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের দায়ী করে স্লোগান দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় বিক্ষোভ চলাকালীন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা এমন বহু সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

অবস্থান বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, মনোজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহঃ সাহীন এবং কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার সম্পাদক ও নেতৃবৃন্দ। বাঙালির অধিকার রক্ষায় এই আন্দোলন আগামী দিনে জেলা স্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।

আরও পড়ুন – ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থীর ‘বেআইনি’ দলীয় শিবির! কমিশনে নালিশ তৃণমূলের

_

 

_

 

_

Related articles

বন্দুক হাতে বিজেপি প্রার্থী! ভাইরাল ছবিতে শুরু বিতর্ক

নির্বাচনে প্রার্থী বাছতে মারামারি থেকে জাতীয় নেতাদের অপদস্ত করা – কোনও পর্বই বাকি রাখেনি রাজ্য বিজেপির নেতারা। সেখানেই...

জাতীয় স্বীকৃতির দোরগোড়ায় দিঘার জগন্নাথধাম, ভোগ প্রসাদের শুদ্ধতায় এবার FSSAI-এর শীলমোহর 

পুরীর ধাঁচে দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের ভোগ প্রসাদ এবার জাতীয় মানের শংসাপত্র পেতে চলেছে। খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণ...

নাকে খত দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প! হরমুজ খুলে দিল ইরান

পশ্চিম এশিয়ায় যে টুকু যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মানুষের প্রাণ যাচ্ছিল, এবার কার্যত তার দায়ও স্বীকার করে নিলেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি...

IPL: লজ্জা! হাফ ডজন ম্যাচ শেষেও জয় অধরা, প্লে-অফের আশাও ক্ষীণ নাইটদের

আইপিএলে (IPL) হারের ধারা অব্যাহত কেকেআরের(KKR)। নাইটদের বিরুদ্ধে ৫ উইকেটে জয় গুজরাট টাইটান্সের। সেই প্লে ছয় ম্যাচ পরও...