দ্বিতীয় শীতলকুচির ছক? আধাসেনার ক্ষমতা বৃদ্ধি ও SIR-এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ বাংলা পক্ষের

রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বৈধ বাঙালির ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আধাসেনার অবাধ ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিবাদে কলকাতার ধর্মতলায় বিশাল অবস্থান বিক্ষোভ করল বাঙালির জাতীয়তাবাদী সংগঠন ‘বাংলা পক্ষ’। শনিবার ধর্মতলার পিয়ারলেস হোটেলের সামনে আয়োজিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে কয়েক শত কর্মী-সমর্থক সামিল হন। তাঁদের অভিযোগ, SIR (Special Institutional Review) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে প্রকৃত ভূমিপুত্রদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে বাঙালিকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করার চেষ্টা চলছে।
Sponsored

বাংলা পক্ষের দাবি, প্রথমে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ রাখা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে দীর্ঘ বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার পর যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে এক বিশাল সংখ্যক বাঙালির নাম ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নাম সংশোধনের জন্য ট্রাইব্যুনালের কথা বলা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা নোটিফিকেশন জারি করা হয়নি। এই প্রক্রিয়াকে ‘বাঙালি বিদ্বেষী ও স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়ে রাজপথে সরব হন আন্দোলনকারীরা।
ভোটার তালিকা ছাড়াও, নির্বাচন পরিচালনায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় অফিসার নিয়োগ এবং আধাসেনার বিরুদ্ধে কোনো FIR করা যাবে না—এমন নির্দেশিকার তীব্র বিরোধিতা করেছে বাংলা পক্ষ। সংগঠনের নেতৃত্ব আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এর ফলে বিগত নির্বাচনের ‘শীতলকুচি’ কাণ্ডের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। আধাসেনাকে দায়মুক্ত করার এই প্রচেষ্টাকে তাঁরা ‘সামরিক আইন’ জারির চেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বাংলা পক্ষের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "বাঙালির রক্তে স্বাধীন ভারতে আজ বাঙালিকে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে। শত শত বছর এই বাংলা যাদের বাসভূমি, তাদের আজ ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করা হচ্ছে। বাংলা পক্ষ এর শেষ দেখে ছাড়বে। বাঙালি হারতে শেখেনি—একটাই হবে, বাঙালিকে যতবার মারবে, বাঙালি ততবার জিতবে।"
বাংলা পক্ষের সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি আধাসেনার ক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "তদন্ত ছাড়া FIR করা যাবে না বলা হচ্ছে, তার মানে কি সামরিক আইন চালু হচ্ছে? আমরা শীতলকুচি দেখেছি, এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় আধাসেনার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ছিল। এখন ক্ষমতা বৃদ্ধির পর আরও অনেক শীতলকুচি হওয়ার আতঙ্কে আমরা দিন কাটাচ্ছি।"
আন্দোলনকারীরা জানান, SIR আতঙ্কে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ১৬০ জন বাঙালির মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের দায়ী করে স্লোগান দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় বিক্ষোভ চলাকালীন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা এমন বহু সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
অবস্থান বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, মনোজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহঃ সাহীন এবং কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার সম্পাদক ও নেতৃবৃন্দ। বাঙালির অধিকার রক্ষায় এই আন্দোলন আগামী দিনে জেলা স্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।
আরও পড়ুন - ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থীর ‘বেআইনি’ দলীয় শিবির! কমিশনে নালিশ তৃণমূলের
_
_
_
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Related Articles

বাড়ছে রেকের সংখ্যা, কলকাতা মেট্রোর ব্লু- গ্রিন লাইনে সময়সূচিতেও পরিবর্তন
Just now

একুশের সাফল্যেই বিরোধীদের অস্বস্তি: তীব্র কটাক্ষ কুণালের
14h ago

'বিদ্রোহীদের' সঙ্গে বাগবিতণ্ডার জের! সংসদ থেকে সাসপেন্ড কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
17h ago

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নথি হাতে ED দফতরে মদন-পুত্র
20h ago

রাস্তা জুড়ে অবৈধ দখলদারি চলবে না, হকারদের সতর্ক করলেন অগ্নিমিত্রা
22h ago

আজ বিধানসভায় স্বরাষ্ট্রদফতরের বাজেট আলোচনা, গুন্ডা দমন আইন নিয়ে বিবৃতি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী
22h ago
More from মহানগর
View All →
পারিবারিক বিবাদের মর্মান্তিক পরিণতি, নিউটাউনে একই পরিবারের মৃত তিন
1d ago

শহিদ দিবসের আবেগঘন পোস্টে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার বার্তা মমতা- অভিষেকের
1d ago

মমতার সভাস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে নির্দেশ আদালতের
1d ago

তারামণ্ডলের সামনে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মিছিল, নেত্রীর সমর্থনে স্লোগান কুণালের
1d ago

একুশের শহরে কোথাও আন্দোলনের স্মৃতিচারণ, কোথাও মমতার সমর্থনে কর্মীদের উন্মাদনা
2d ago
