আটপৌরে শাড়িতে মঙ্গলদায়িনী দেবী কাত্যায়নী। মাধুর্যময়ী অষ্টাদশভূজা দেবী দুর্গারই মাতৃময়ী রূপ। আমতার কুুরিটে অকাল দুর্গোৎসবে সোমবার ছিল মহাষ্টমী। এদিন সন্ধ্যায় অষ্টমীয় ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে সন্ধিপুজো হল ভক্তি আর সাধনার মন্ত্রে। পদ্ম নয়, চিরাচরিত রীতি মেনে ১০৮ ফোঁটা অশ্রুজলে হয় সন্ধিপূজো। দেবীর পায়ে ভক্তিভরে নিবেদন করা হয় পূজারীর চোখের জলের ১০৮টি বিন্দু। নিবেদন করা হয় ভক্তিভরে।
বাণী বন্দনার পরের দিন থেকে তারাময়ী আশ্রমে দুর্গা পুজোর রীতি।

কেন এই অসময়ে দুর্গাপুজো? প্রধান পুরোহিত মদনমোহন হালদারের কথায়, যখন দুর্ভিক্ষ, পীড়া দেখা দেয়, আধ্যাত্মিক, আধিভৌতিক, আধিদৈবিক… ত্রিবিঘ্নের হাত থেকে রক্ষা পেতেই হয় কাত্যায়নী পুজো। গৌরবর্ণা মহাশক্তিশালিনী উমাকে ধরাতলে প্রতিষ্ঠা করে তাঁর পুজোয় প্রথম ব্রতী হয়েছিলেন ঋষি কাত্যায়ন। হিমগিরি পর্বতে ঘুমিয়ে থাকা শতমুখী রাবণকে দেবী অষ্টাদশভূজা রূপে বধ করেছিলেন। সেই শক্তিময়ীকে মর্ত্যে প্রতিষ্ঠা করতে তপস্যায় বসেছিলেন ঋষি কাত্যায়ন। মহর্ষির তপস্যায় ব্রহ্মা-বিঞ্চু-মহেশ্বর গৌরবর্ণা দুর্গাকে শস্যক্ষেত্রে এনেছিলেন। সেখানেই হয়েছিল মায়ের পুজো। ব্রতী হয়েছিলেন স্বয়ং ঋষি কাত্যায়ন। সেই থেকেই গৌরবর্ণা দুর্গা কাত্যায়নী নামে পরিচিতা। আমতার বাজেপোতা গ্রামের বিশ্বনাথ চক্রবর্তী মায়ের সাধনায় সিদ্ধিলাভ করে স্বপ্নাদিষ্ট হয়েছিলেন। স্বপ্নে দেখেছিলেন মায়ের কাত্যায়নী রূপ। তারপরই তারাময়ী আশ্রমে দেবীকে ভক্তিভরে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সিদ্ধিলাভের পর পূজারির নাম হয়েছিল আদিত্যনারায়ণ ভৈরব। পদ্ম কেনার সাধ্য ছিল না। তাই নিজের ‘পদ্মলোচনে’র ফোঁটায় দেবীর সন্ধিপুজো করেছিলেন আদিত্যনারায়ণ। কুরিট-সহ আমতার বড়মহরা, ছোটমহরা, খোসালপুর, চাকপোতা প্রভৃতি গ্রামে শস্যহানির ফলে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। কুরিট গ্রামের উত্তম কোলে আদিত্যনারায়ণের শরণাপন্ন হন। তিনিই পরামর্শ দেন কাত্যায়নীকে প্রতিষ্ঠা করার। ডি-২ খালের ধারে সামাজিক বনসৃজনের গাছগাছালির মধ্যে তারাময়ী আশ্রম প্রতিষ্ঠা করে শুরু হয় কাত্যায়নী-বন্দনা। দেবী কাত্যায়নী আরাধনায় অসুর থাকে না। দেবী সিংহবাহিনী। ধান ও অন্যান্য শস্যসামগ্রী উপচারে পুজো। কাত্যায়ন ঋষিরও পুজো হয় এই মণ্ডপে।

আরও পড়ুন- রাজনৈতিক সৌজন্য! রাজভবনে সাধারণতন্ত্র দিবসের চা-চক্রের আমন্ত্রণ রক্ষা মুখ্যমন্ত্রীর

_

_

_

_

_

_

_
_


