রাজ্যের গ্রামীণ আবাসন প্রকল্পে বড়সড় পদক্ষেপ করল নবান্ন। বুধবার সিঙ্গুরের সরকারি পরিষেবা প্রদানের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ‘বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ)-২’ প্রকল্পের সূচনা করলেন। এদিন রাজ্যের আরও ২০ লক্ষ উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা করে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেন তিনি। সরাসরি উপভোক্তাদের কাছে এই অর্থ পৌঁছে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, মানুষের মাথার উপর ছাদ নিশ্চিত করাই তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার।

সিঙ্গুরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী এদিন পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, গত দু’মাসে আমরা মোট ৩২ লক্ষ মানুষকে ঘর তৈরির টাকা দিয়েছি। আগে ১২ লক্ষ উপভোক্তা এই সহায়তা পেয়েছিলেন। আজ আরও ২০ লক্ষ মানুষের অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দিল্লি টাকা না দিলেও রাজ্য সরকার নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিশেষত প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাঁরা ভিটেমাটি হারিয়েছেন, তাঁদেরও এই প্রকল্পের আওতায় দ্রুত ঘর করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিনের মঞ্চ থেকে উন্নয়নের এক বিশাল কর্মকাণ্ডের খতিয়ান পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সিঙ্গুর থেকেই তিনি রাজ্যের ১০৭৭টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন, যার মোট আর্থিক মূল্য ৫৬৯৪ কোটি টাকা। পাশাপাশি, ২১৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও ৬১৬টি নতুন প্রকল্পের শিলান্যাস করেন তিনি। তবে এদিনের সবথেকে বড় ঘোষণা ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে। প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মেদিনীপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে রাজ্য সরকার নিজের উদ্যোগেই এই কাজ শুরু করছে।একই মঞ্চ থেকে কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো উন্নয়নের বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন, আসন্ন দিনগুলিতে জেলাস্তরের উন্নয়নই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

আরও পড়ুন- অভিষেকের কথাই সত্যি প্রমাণিত: এবার বিজেপি সভাপতির মুখেই ‘জয় বাংলা’

_

_

_

_

_

_
_


