রাজনৈতিক নেতৃত্বের মৃত্যু তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের থেকে অনেক বেশি প্রভাব ফেলে রাজনীতির মঞ্চে। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী পদে থাকা অবস্থায় বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারের (Ajit Pawar) মৃত্যুকে দেশের একাংশের রাজনৈতিকরা নাশকতা বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন না। আদতে অজিত পাওয়ারের মৃত্যু মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে, এমন ইঙ্গিত মৃত্যুর দিন থেকেই ঘোরাফেরা শুরু করেছে।

মহারাষ্ট্রে পঞ্চায়েত নির্বাচন আবহেই অজিত পাওয়ার মহাজুতি (Mahayuti) জোট ছাড়তে পারেন, এমন সম্ভাবনার কথা উঠেছিল। যদিও সেখানেই এনসিপি-র (NCP) রাজ্যসভার সাংসদ প্রফুল প্যাটেল (Praful Patel) স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, শারদ পাওয়ার গোষ্ঠীর সঙ্গে অজিত পাওয়ার গোষ্ঠী মিলে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই। এনডিএ জোটের সঙ্গেই থাকছে এনসিপি। তবে সাংসদ তথা দলের কার্যকরী সভাপতি প্যাটেলের উত্তরেই সেই সম্ভাবনাও লুকিয়ে ছিল।

মহারাষ্ট্রে পঞ্চায়েত নির্বাচন ৫ ফেব্রুয়ারি। ইতিমধ্যেই মনোনয়ন জমা, তোলা এবং প্রতীক প্রদানের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। মহাজুতি জোট ছেড়ে অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar) তাঁর এনসিপি (NCP) নিয়ে সরে আসতে চাইলে এখন সেই উপায় আর নেই। তবে ৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সেই পথ খোলা থাকছে।

অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর পর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে এই মৃত্যুতে নাশকতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেননি। এবং সেখানে তিনি অজিত পাওয়ারের বিজেপি জোট ছাড়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। একইভাবে বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেসও। কংগ্রেস সাংসদ দ্বিগবিজয় সিং প্রশ্ন তোলেন, যে সংস্থার বিমান তিন বছর আগে মুম্বাইতে দুর্ঘটনায় পড়েছিল তাতেই কেন সওয়ার রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন : অজিত পাওয়ারের বিমান দুর্ঘটনায় কেন সুপ্রিম নজরদারিতে তদন্ত: স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রীর

এনসিপি প্রধান অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে পারিবারিকভাবে বিভেদ ঘুচে যাওয়ার একটি ছবিও তৈরি হয়েছে। যেখানে শারদ পাওয়ার সস্ত্রীক সাক্ষাৎ করেছেন অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সাংসদ সুনেত্রা পাওয়ারের সঙ্গে। দাদার মৃত্যুতে বৌদি সুনেত্রার পাশে দাঁড়িয়েছেন এনসিপি সাংসদ সুপ্রিয়া শুলে। অর্থাৎ এনসিপি-এর দুই গোষ্ঠী যে কাছাকাছি এসেছে তারও প্রমাণ মিলেছে পাওয়ারের মৃত্যুর দিনই।

–

–

–

–


