মণীশ কীর্তনিয়া, সিঙ্গুর
SIR থেকে বাংলার বঞ্চনা, পরিযায়ী বাংলাভাষী শ্রমিকদের মারধর- সব বিষয় নিয়েই বুধবার সিঙ্গুরের (Singur) সভা থেকে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সভামঞ্চ থেকে তৃণমূল নেত্রীর হুঙ্কার, বিজেপিকে বাংলায় ঢুকতে দেব না, ওদের অহঙ্কার চূর্ণবিচূর্ণ করব। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে আরও একবার আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, এখানে কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না।

কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission) একযোগে নিশানা করে মমতা বলেন, কমিশন বিজেপির কথামতো চলতে গিয়ে সাধারণ মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। সাধারণ মানুষ থেকে বিএলও-র মতো সরকারি আধিকারিক আত্মহত্যা করছেন। অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, আপনার স্ত্রীর পদবি কী? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রীর টাইটেল কী? বাংলার মেয়েরা বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি যায়। পদবি পাল্টে যায়। তাই বলে এসআইআরে ডাকবে! আমাকে জেলে ভরো, গুলি করো— আই ডোন্ট কেয়ার। আমাকে জেলে দিলে মা-বোনেরা জবাব দেবে। কৃষকেরা জবাব দেবে। এর পরই তিনি এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের হয়রানির প্রতিবাদ করে গর্জে ওঠেন। বলেন, আজ না হলে কাল তো আমি যাবই দিল্লি। দরকারে কোর্টে আমিও যাব। আইনজীবী হয়ে নয়, সাধারাণ মানুষ হিসাবে। সব ডকুমেন্ট রেখে দিয়েছি। জ্যান্ত মানুষকে মৃত বানাচ্ছেন!

মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) কথায়, ওরা ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছে। অহংকার দেখাচ্ছে। সব অহংকার ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করব। শুধু আপনারা পাশে থাকুন। সুস্থ থাকুন। এসআইআর প্রক্রিয়ায় সকলকে সহযোগিতা করতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, চিন্তা করে নিজের শরীর খারাপ করবেন না। আত্মহত্যা করবেন না। এটা বাংলা। ডাকছে ডাকুক। যাবেন। এটা বাংলা। এখানে ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না।

এদিনের সভা থেকে বাম ও বিজেপিকেও একযোগে আক্রমণ করেন তিনি। ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, আমি কিন্তু জীবন দিয়ে লড়াই করি। অনেক অত্যাচার সহ্য করেছি সিপিএম আমলে। ২৬ দিন এই সিঙ্গুরে অনশন করেছি। সিঙ্গুর আন্দোলনের একটা বড় অংশ— ২০০৬-’০৮ এখানেই কেটেছে। এরপর বিজেপি এসে এসআইআর-এর নামে এনআরসি-র চক্রান্ত করছে। বিজেপি গত ১০ বছর ধরে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাচ্ছে। আমাদের উন্নয়ন দেখছে, আর লুচির মতো ফুলছে। যারা মানুষকে হত্যার চক্রান্ত করছে তাদের ধিক্কার জানাই।

এদিন সভা থেকে বাংলা ভাষা নিয়েও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলাকে ধ্রুপদী ভাষা হিসাবে কেন্দ্রের স্বীকৃতি প্রদানকে একহাত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাঁচ বস্তা বই পাঠিয়েছি। রিসার্চ টিম তৈরি করেছি। আমরা বলেছি বলেই তোমরা স্বীকৃতি দিয়েছ। একই সঙ্গে ভিনরাজ্যে বাঙালি হেনস্থা নিয়েও সরব হন তিনি।

–

–

–

–

–


