Friday, January 30, 2026

শেষ মুহূর্তে থ্রিলার, নিলাম থামিয়ে বুদ্ধের অমূল্য রত্ন রক্ষা ভারতের

Date:

Share post:

থেমে গেল নিলাম(Auction)। শেষ পর্যন্ত রক্ষা পেল প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো, গৌতম বুদ্ধের(Gautam Buddha )সঙ্গে সরাসরি যুক্ত অমূল্য পিপরাওয়া বুদ্ধ-রত্ন। সীমান্ত ছাড়িয়ে যাওয়া এই ঐতিহ্য যাতে আর কখনও ভারতের হাতছাড়া না হয়, তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক ও আইনি স্তরে এক ঐতিহাসিক লড়াই লড়ল ভারত।

ঘটনার শুরু ছিল একেবারেই সাধারণ একটি সতর্কবার্তা থেকে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই বিষয়টি আন্তর্জাতিক গুরুত্ব পায়। জানা যায়, লন্ডনে(London) থাকা পিপরাওয়া বুদ্ধ-রত্ন হংকংয়ে(Hong Kong) নিলামে তুলতে চলেছে বিশ্বখ্যাত নিলাম সংস্থা সোদেবি’স (Sotheby’s)। নিলামের বেস প্রাইস ধরা হয়েছিল প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার(Dollar)। খবর সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে ভারত সরকার।

১৮৯৮ সালে প্রাচীন কাপিলাবস্তুর একটি স্তূপ খনন করে এই রত্নগুলি আবিষ্কার করেছিলেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ উইলিয়াম ক্ল্যাক্সটন পেপ্পে। সেই আবিষ্কারের ১২৭ বছর পরে তাঁর বংশধররা এই ঐতিহাসিক সম্পদ নিলামে তোলার উদ্যোগ নেন। অথচ এই রত্নগুলি শুধুই অলংকার নয়— এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বুদ্ধের অস্থিধাতু, রেলিক, রিলিকোয়ারি ও খোদাই করা পাথর, যা বৌদ্ধ সভ্যতার অমূল্য স্মারক।

উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের কাছে অবস্থিত পিপরাওয়া বৌদ্ধ ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। দীর্ঘ সময় পর ব্রিটেনে থাকা রত্নগুলির একাংশ ভারতে থাকা বুদ্ধ-রেলিকের সঙ্গে পুনর্মিলিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল ‘দ্য লাইট অ্যান্ড দ্য লোটাস: রেলিক্স অফ দ্য অ্যাওয়েকেন্ড ওয়ান’ প্রদর্শনীর মাধ্যমে। কিন্তু নিলাম হলে এই স্মারকগুলি ব্যক্তিগত সংগ্রাহকদের হাতে চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদেশি রাষ্ট্রের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।

এই পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করে ভারত সরকার। শুধু আইনি মালিকানার যুক্তিতে নয়, ভারত জোর দেয় নৈতিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে। সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল— এই রত্ন কোনও পণ্য নয়, এগুলি একটি জীবন্ত সভ্যতার অংশ। করুণা, অহিংসা ও জ্ঞানের যে দর্শন বুদ্ধ পৃথিবীকে দিয়েছিলেন, এই স্মারক তারই প্রতীক। তাই এগুলিকে বাণিজ্যের বস্তু হিসেবে দেখা যায় না।

এই যুক্তিই আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার দিক বদলে দেয়। শেষ ৭২ ঘণ্টায় আইনি নোটিস, কূটনৈতিক চাপ এবং প্রয়োজনীয় নথি পেশ করে নিলাম বন্ধ করতে সক্ষম হয় ভারত।

কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের সচিব বিবেক আগরওয়াল জানান, “এই প্রথম সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে এমন মূল্যবান ঐতিহ্য দেশে ফেরানো সম্ভব হল।”

ন্যাশনাল মিউজিয়ামের বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রত্নগুলির বয়স প্রায় আড়াই হাজার বছর এবং এগুলি প্রাথমিক বৌদ্ধ সভ্যতার অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন। তাঁদের কথায়, এগুলি শুধু প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ নয়, বরং মানব সভ্যতার স্মৃতি, যা কোনও দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়।

এই পুরো উদ্যোগে বিশেষ ভূমিকা নেন শিল্পপতি পিরোজশা গদরেজ। তিনি নিজে রত্নগুলি কিনে নিয়ে সরকারের হাতে তুলে দেন, এই শর্তে যে সেগুলি চিরকাল ভারতে থাকবে।শেষ পর্যন্ত এক ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রক্ষা পেল।

spot_img

Related articles

অঙ্কের ভয় কাটাতে নয়া উদ্যোগ, বসিরহাটে সীমান্তবর্তী স্কুলে চালু ‘ম্যাথমেটিক্স ল্যাবরেটরি’

অঙ্কের প্রতি ভয়কে দূর করতে নয়া পদক্ষেপ নিল বসিরহাটের সীমান্তবর্তী কাটিয়াহাট বিকেএপি ইনস্টিটিউশন। বসিরহাট মহকুমায় এই প্রথম কোনও...

ছুটির খাতায় নতুন কলাম: সরকারি দফতরেও ‘মেন্সট্রুয়েশন লিভ’ স্বীকৃত

অফিসের হাজিরা খাতায় এখন আর শুধু ক্যাজুয়াল বা সিক লিভ নয়, সসম্মানে জায়গা করে নিয়েছে 'মেন্সট্রুয়েশন লিভ' (Menstruation...

DGP নিয়োগ নিয়ে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার IPS রাজেশ কুমারের

পশ্চিমবঙ্গে DGP নিয়ে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করলেন IPS রাজেশ কুমার। রাজ্য পুলিশের DG নিয়ে CAT-এর সমস্ত...

শেষ ম্যাচেও পুরো পয়েন্ট অধরা, গ্রুপ শীর্ষে থেকেই কোয়ার্টারে বাংলা

সন্তোষ ট্রফিতে(Santosh Trophy )অসমের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করল বাংলা(Bengal)। প্রথমার্ধে আকাশ হেমরমের...