রাজ্যে চলমান এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার মধ্যেই ফের এক বিএলও-র (BLO) মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে (SILIGURI) ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজের প্রবল মানসিক চাপে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যার অভিযোগ। এক স্কুলশিক্ষকের পরিবারের অভিযোগ, নিয়মিত পড়ানোর দায়িত্বের সঙ্গে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজের চাপই শেষ পর্যন্ত প্রাণ কেড়ে নিল তাঁর।

বৃহস্পতিবার বিকেলে শিলিগুড়ির সেবক এলাকায়( SEVOK ) তিস্তা নদীতে (TEESTA RIVER ) ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন শ্রবণ কাহার। শিলিগুড়ি পুরনিগমের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শ্রবণ (৪২) পেশায় ছিলেন স্কুলশিক্ষক। তবে বর্তমানে তাঁর কাঁধে ছিল বিএলও-র গুরুদায়িত্ব। পরিবারের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই এসআইআর সংক্রান্ত রিপোর্টিং, শুনানির পাহাড়প্রমাণ কাজ এবং স্কুলের দায়িত্ব- সব মিলিয়ে কাজের বোঝা ক্রমশ অসহনীয় হয়ে উঠেছিল। সেই চাপ আর সামলাতে না পেরেই তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নেন বলে পরিবারের দাবি। আরও পড়ুন: প্রাক্তন IPS-কে SIR হেনস্থা! তৃণমূলের বিধায়ক হুমায়ুনকে শুনানিতে ডাক

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে শ্রবণ আর ফেরেননি বলে অভিযোগ পরিবারের। বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে সেবক এলাকায় তিস্তা নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সেবক থানার পুলিশ। বেশ কয়েক ঘণ্টার তল্লাশির পর নদী থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ইতিমধ্যেই দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই রাতেই হাসপাতালে পৌঁছান শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। তিনি শোকাতুর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং সমবেদনা জানান।

মৃত শিক্ষকের পরিজনদের অভিযোগ, নিয়মিত শিক্ষকতার পাশাপাশি বিএলও-র কাজে কোনো বিরাম ছিল না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে আসা ক্রমাগত চাপের মুখে পড়েছিলেন বিএলও দের। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় স্পষ্ট হচ্ছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের উপর কাজের চাপ ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে—যার পরিণতি হিসেবে আতঙ্ক, মানসিক ভাঙন এবং আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের মতো ঘটনা সামনে আসছে।

–

–

–

–

–

–


