আনন্দপুরের কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা নিয়ে বাংলায় এসেই সরব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। আগুন লাগার তদন্তে কোনও সাহায্য বা প্রতিশ্রুতির বার্তা নেই সেখানে। আগুন লাগার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকেই সরাসরি দায়ী করেছেন তিনি। এমনকি ২০২৬ সালে বাংলায় ক্ষমতা দখলের পরে বিজেপি অপরাধীদের শাস্তি দেবে বলেও দাবি করেন তিনি। আর সেখানেই বাংলার প্রশাসনের পদক্ষেপ তুলে ধরে পাল্টা দেশের সঙ্গে বেইমানি করা ব্যবসায়ীদের উদাহরণ তুলে ধরেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সেইসব ব্যবসায়ীদের যে দেশের প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে এক ফ্রেমে দেখা যায়, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ভোটের বাজারে যেভাবে একটি দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করতে নেমেছেন অমিত শাহ (Amit Shah), তাকে কটাক্ষ করে অভিষেক (Abhishek Banerjee) দাবি করেন, দুর্ঘটনাকে নিয়ে পলিটক্স করা বিজেপির কায়দা। বিজেপি শকুনের মৃতদেহ খোঁজে। আর মৃত্যুর রাজনীতি করে। আমি সংবাদমাধ্যমকে অনুরোধ করব, আপনারা তো সমাজের চোখ-কান হিসেবে কাজ করেন। আমাদের যদি কোনও ভুল-ত্রুটি হয় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এই ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় তা সুনিশ্চিত করতে হবে।

বাংলায় দুর্ঘটনা ঘটলেও তাতে রাজনীতি খুঁজে বের করার চেষ্টা বিজেপির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর। সেখানেই বিজেপি শাসিত রাজ্যের সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, অমিত শাহ বলছেন যে আনন্দপুরে যে দুর্ঘটনা ঘটেছে তার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী। তাহলে একমাস আগে গোয়ায় নাইট ক্লাবে আগুনের যে ঘটনা ঘটেছে তার জন্য নরেন্দ্র মোদি দায়ী? পানীয় জল খেয়ে ইন্দোরে ২৫ জন মারা গিয়েছেন তার জন্য নরেন্দ্র মোদি দায়ী? একটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাকে নিয়ে একটা মানুষ কত নীচে নামতে পারে?

আনন্দপুরের মোমো কারখানায় আগুনের ঘটনার পরেও মোমো কারখানার মালিককে কেন গ্রেফতার করা হয়নি, প্রশ্ন তুলেছিলেন শাহ। তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিদেশ সফরে যাওয়ার জন্যই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি। পাল্টা তদন্তের স্বচ্ছতা প্রকাশ করে অভিষেক তুলে ধরেন, যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে বিদেশ সফরে গিয়েছেন বলে দুর্ভাগ্যজনক, বেদনাদায়ক, মর্মান্তিক ঘটনাকে নিয়ে রাজনীতি করছে। মেহুল চোকসির (Mehul Choksi) বিরুদ্ধে ভারতকে সর্বস্বান্ত করে ১৮-২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁরা তো নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বিদেশ সফরে গিয়েছেন। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে মোদির সঙ্গে কার ছবি আছে? নীরব মোদির ছবি নেই? লোক হাসানোর জন্য এই কথাগুলি বলছে বিজেপি।

আরও পড়ুন : বাংলায় আগুন রাজনীতি শাহর: বিজেপি রাজ্যে ক্ষতিপূরণ কোথায়, দ্বিচারিতা স্পষ্ট করলেন ব্রাত্য

আগুনের ঘটনায় কোনও রাজনীতিই যখন প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি অমিত শাহ, তখন তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন গুদামের দরজা বন্ধ ছিল, যার ভিতরে আটকে মারা যান কর্মীরা। সেখানেই অভিষেক স্পষ্ট করে দেন, একটা প্রাইভেট গোডাউন তারমধ্যে কে কী পরিস্থিতিতে আছেন, সরকারের পক্ষে এটা দেখা সম্ভব নয়। ফায়ার ডিপার্টমেন্ট থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন যথেষ্ট সক্রিয়তার সঙ্গে কাজ করেছে। যাদের গাফিলতির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেই গোডাউনের মালিক এবং ওয়াও মোমোর ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে যারা ছিলেন তাঁদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর উপরে যদি কেউ থাকে, এর সঙ্গে জড়িত কেউ থাকে সে যত বড় শিল্পপতিই হোক সরকার কাউকে ছাড়বে না।

–

–

–

–

