Friday, March 13, 2026

মাধ্যমিক পরীক্ষা বানচালের চেষ্টা! SIR-এ স্কুল শিক্ষকদের চাপে তোপ ব্রাত্যর

Date:

Share post:

রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় এখনও পর্যন্ত যে ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে বিএলও মৃত্যুর সংখ্য়াটাও কম নয়। কারো মৃত্যু হয়েছে কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে। কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে সোমবার থেকে শুরু মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik exam), যেখানে অন্তত ৫০ হাজার শিক্ষকের প্রয়োজন। এসআইআর-এর (SIR) কাজ থেকে অব্যহতি না মিললে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ামকের কাজ করা যে কার্যত অসম্ভব তা বুঝেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদও (WBBSE)। কিন্তু কেন তারপরেও এই বিএলও-দের (BLO) চাপ দিয়েই এসআইআর-এর কাজ করানো হচ্ছে তার স্বরূপ ফাঁস করলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)। কমিশনের আসল উদ্দেশ্য ফাঁস করে নিশ্চিন্ত করলেন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের।

শুক্রবারই মধ্যশিক্ষা পর্ষদ কড়া নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছিল, পরীক্ষার সময়ে শিক্ষকেরা শুধুমাত্র স্কুল ও পরীক্ষার কাজে মনোযোগ দেবেন। তাঁদের ওপর নির্বাচনী দায়িত্ব চাপানো যাবে না৷ এ নিয়ে নির্বাচনী আধিকারিকদের চিঠিও দেওয়া হয়েছে। এরপর আজ তৃণমূল ভবন থেকে ব্রাত্য বসু জানান, মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik exam) যাতে বানচাল করা যায় তার জন্যে চেষ্টা করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে, এসআইআরের (SIR) নামে। রাজ্যে সাত লক্ষের উপর পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করছি আপনারা সকলেই ভালোভাবে পরীক্ষায় বসতে পারবেন। কেন্দ্র চাইছে না আপনারা বাঙালি ছেলেমেয়ে আপনাদের পরীক্ষা ভালো হোক, বিজেপি চায় আপনাদের কেরিয়ার ধ্বংস হোক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন আমরা আছি। কোনও চিন্তা নেই।

আরও পড়ুন : মাধ্যমিকের আগে অ্যাডমিট বিভ্রাট: কড়া পদক্ষেপ হাইকোর্টের

মাধ্যমিক পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করাই লক্ষ্য। এই পরিস্থিতিতে এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্যে বহু শিক্ষককে বিএলও পদে নিয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে পরীক্ষা-ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে বলেই আশঙ্কা। তাই পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষকদের স্কুলে উপস্থিতি যাতে ঠিক থাকে সেই নিয়েই চিঠি দিয়েছেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষকেরা পরীক্ষা চলাকালীন প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ, পরীক্ষাকেন্দ্রে নজরদারি এবং পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন। নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকলে এই দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করা সম্ভব হবে না। তাই রাজ্যের ২৩টি জেলার শিক্ষকেরা পরীক্ষার দিন বিকেল সাড়ে চারটে পর্যন্ত বিএলও দায়িত্ব থেকে মুক্ত থাকবেন। পর্ষদের সাফ যুক্তি, শিক্ষকদের পেশাগত কাজে ক্ষতি না করে নির্বাচন-কাজে ব্যবহার করা উচিত। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনাও স্পষ্ট, শিক্ষকদের ছুটির দিন বা পরীক্ষার পরেই বিএলও কাজে নিয়োগ দিতে হবে।পরীক্ষার সময়ের পরে বা শুধুমাত্র ছুটির দিনে শিক্ষকদের নির্বাচন-কাজে ব্যবহার করতে হবে।

spot_img

Related articles

হরমুজে ভারতকে ছাড় দিচ্ছে ইরান: প্রতিশ্রুতি ইরানি রাষ্ট্রদূতের

হরমুজ প্রণালী দিয়ে তিন দেশকে ছাড় দেওয়ার পর চতুর্থ দেশ হতে পারে ভারত। শুক্রবার দিল্লিতে ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা...

মাঝপথে থমকাল সুনিধির সুরের সফর: আপাতত পিছল কলকাতার অনুষ্ঠান

লাগাতার সঙ্গীত সফরে ক্লান্ত গায়িকা। লখনউয়ের (Lucknow) মঞ্চে গাইতে গিয়েই গলায় সমস্যা হওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন সুনিধি চৌহান...

ইরাকে ভেঙে পড়ল মার্কিন যুদ্ধ বিমান, বিবৃতি ট্রাম্প সেনাবাহিনীর

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের মধ্যেই পশ্চিম ইরাকে ভেঙে পড়ল আমেরিকার (US Military Aircraft Crash) সামরিক বিমান কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান...

সাত অভিযোগ জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে: ২০০ স্বাক্ষরে ইমপিচমেন্ট পাশ সময়ের অপেক্ষা!

সংসদে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট পাশ হওয়া কী সময়ের অপেক্ষা? শুক্রবার তৃণমূলের নেতৃত্বে বিরোধী সাংসদরা...