বিধানসভা চত্বরে সশরীরে উপস্থিত থেকেও অধিবেশন কক্ষে ঢুকলেন না বিরোধী দলনেতা-সহ বিজেপি বিধায়কদের একাংশ। মঙ্গলবার সপ্তদশ বিধানসভার শেষ অধিবেশনের প্রথম দিনেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।

এ দিন প্রথা মেনে শোক প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী বাজেট অধিবেশনের সূচনা হয়। অধিবেশন শুরুর মুখে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় সব পক্ষের বিধায়কদের কাছে আবেদন জানান, যাতে সভার কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। দলমত নির্বিশেষে সদস্যদের অধিবেশনে উপস্থিত থেকে সব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য বারংবার অনুরোধ করেন তিনি। তবে স্পিকারের সেই আহ্বানে সাড়া মেলেনি বিরোধী বেঞ্চের বড় অংশের।

দেখা গিয়েছে, শাসক পক্ষের প্রায় সব সদস্য নির্দিষ্ট সময়ে নিজেদের আসনে উপস্থিত থাকলেও বিরোধী বেঞ্চ ছিল কার্যত খাঁ খাঁ। হাতে গোনা কয়েকজন বিজেপি বিধায়ক, যেমন শঙ্কর ঘোষ ও অশোক লাহিড়ীকে কক্ষে দেখা গেলেও দেখা মেলেনি খোদ বিরোধী দলনেতার। অথচ জানা গিয়েছে, বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকে যোগ দিতে এ দিন অধিকাংশ বিধায়কই বিধানসভা চত্বরে উপস্থিত ছিলেন। চত্বরে থেকেও কেন তাঁরা অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করলেন না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

এ দিন সদ্য প্রয়াত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন স্পিকার। বারামতিতে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, চলচ্চিত্র জগতের নক্ষত্র ধর্মেন্দ্র, রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী অর্ঘ্য সেন এবং বর্তমান বিধানসভার সদস্য জুলফিকার ইসলাম-সহ একঝাঁক কৃতী ব্যক্তিত্বের স্মরণে শোক জ্ঞাপন করা হয়। এর পরেই স্পিকার দিনের মতো অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করেন।

আগামী বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে বারোটায় রাজ্যপালের অভিভাষণের মাধ্যমে ফের অধিবেশন শুরু হবে। ওই দিনই দ্বিতীয়ার্ধে অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সোমবার পর্যন্ত চলা এই অধিবেশনে বিরোধীদের ভূমিকা শেষ পর্যন্ত কী হয়, এখন সেটাই দেখার।

আরও পড়ুন- আরও বড় ব্যবধানে জিতব: দিল্লি থেকে বাংলা জয়ের বার্তা তৃণমূল সভানেত্রীর

_

_

_

_
_


