ইতিহাসের সাক্ষী থাকলে সুপ্রিম কোর্ট। এই প্রথম কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) মামলায় সওয়াল করলেন। SIR মামলায় বুধবার, মানুষের হয়রানির অভিযোগে জোর সওয়াল করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি অভিযোগ করেন, বেছে বেছে শুধু মাত্র বাংলাকে টার্গেট করা হয়েছে। আগামী সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি। তার আগে নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ দিতে বলা হয়েছে।

এদিন দুপুরে শুনানি শুরু হওয়ার পর প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর কাছে অনুমতি চান আবেদনকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, “আমি কি একটু ব্যাখ্যা করতে পারি?” পাল্টা প্রধান বিচারপতি বলেন, ”আপনাদের তরফে সেরা লিগাল টিম রয়েছেন এই মামলায় আমাদের সহযোগিতা করতে।” মমতা বলেন, ”যদি আমাকে ৫ মিনিট দেওয়া হয়।” বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, ”৫ মিনিট কেন আমরা ১৫ মিনিট সময় দেব। সব সমস্যার সমাধান হয়। আমাদের সেই সমাধানসূত্র খুঁজতে হবে। যাতে কোনও বৈধ ভোটার বাদ না যান।”

আদালতের (Supreme Court) প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মমতা (Mamata Banerjee) বলেন, “আমি এই রাজ্যের মানুষ। আপনাদের সদয়, তাই আজ এখানে উপস্থিত হতে পেরেছি। বেঞ্চের প্রতি আমার শ্রদ্ধা, বিরোধী পক্ষের আইনজীবীদের প্রতিও আমার নম্র প্রণাম জানাচ্ছি।” মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন সবকিছু শেষ হয়ে যায়, অথচ ন্যায় মেলে না। যখন ন্যায় দরজার আড়ালে কাঁদে—তখনই মনে হয়, কোথাও আমরা ন্যায় পাচ্ছি না।” তিনি জানান, কমিশনকে ৬টিচিঠি লেখার পরেও উত্তর পাননি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, “আমি এখানে আমার দলের জন্য লড়ছি না।”

মমতা বলেন, ”আপনি যদি আমাকে অ্যালাও করেন, আমি কিছু ছবি আপনার কাছে পেশ করতে চাই। স্যার, শুধু নাম বাদ দেওয়ার জন্য এসআইআর। সংযুক্ত করার জন্য নয়। একজন মহিলার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর তাঁদের পদবি বদল হওয়ায় নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। ঠিকানা বদলে যাওয়ায় নাম বাদ দিচ্ছে। আধার কার্ডকে অনুমতি দেওয়ার জন্য রাজ্যের মানুষ খুশি, ধন্যবাদ জানাই শীর্ষ আদালতকে। কিন্তু কমিশন তা নিচ্ছে না।”

জোর সওয়াল করে মমতা বলেন, ”কেন বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে? কেন অসমে করা হচ্ছে না? বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে কেন এত তাড়াহুড়ো করে এসআইআর? একশোর বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। বিএলওরা মারা গিয়েছেন। অনেকে হাসপাতালে।”

এর জবাবে প্রধানবিচারপতি বলেন, ”কোনও নির্দোষ নাগরিককে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না। ম্যাডাম মমতা- আমরা আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, আপনার পিটিশনের মাধ্যমে আসল সমস্যা জানতে পেরেছি। বাংলা ভাষায় লেখার জন্য কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না। কাউকে তাদের দায়িত্ব পালন না করে পালাতে দেওয়া যাবে না।”

মাইক্রো অবজারভার প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ”আমরা সুবিচার চাই। বাস্তবটা বুঝুন- ERO, BLO-দের আজ কোনও ক্ষমতা নেই। এরা ৮৪০০ মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের নিয়োগ করে তাঁদের হাতে সব ক্ষমতা তুলে দিয়েছে। তাঁরাই সব নাম বাদ দিচ্ছে। ইলেকশন কমিশন আজ হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন হয়ে গিয়েছে। জনতাকে অভিযোগ জানাতে দিচ্ছে না।”

মুখ্যমন্ত্রীর সওয়ালের পাল্টা কমিশনের আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী বলেন, ”আমরা অনেক গুলি চিঠি লিখে ক্লাস টু অফিসার চেয়েছি। পাইনি। ৮০ জন মাত্র ক্লার্ক দেওয়া হয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের নিয়োগ করা হয়েছে।”

এর প্রতিবাদ করে মমতা বলেন, ”আমার বিরোধী পক্ষের আইনজীবীরা যা বলছেন সব সত্য নয়। আমরা এদের সহযোগিতা করেছি। যা চেয়েছে, দিয়েছি। প্রথম পর্বে ৫৮ লাখ, পরের পর্বে ১ কোটি ৩৬ লাখ লোককে বাদ দেওয়া হচ্ছে। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি তালিকা বাতিল করা হোক। আদালত অবমাননা করেছে নির্বাচন কমিশন। বাংলার আমজনতার অধিকার রক্ষা করুন। গণতন্ত্রকে রক্ষা করুন।”
আরও খবর: ঐতিহাসিক! সুপ্রিম কোর্টে SIR মামলায় সওয়াল বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতার

দুপক্ষের সওয়াল জবাবের পরে সব পক্ষকে নোটিশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী সোমবার মামলার পরবর্তী শুনানি।


