রাজ্যের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের পাশে দাঁড়ানোর পর এবার ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের জন্যও আর্থিক সুরক্ষার দরজা খুলে দিল নবান্ন। অন্তর্বর্তী বাজেটে অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের সুবিধা পাবেন রাজ্যের যোগ্য ক্ষেতমজুররাও। পাশাপাশি চাষের খরচ কমাতে ক্ষুদ্র চাষিদের জন্য সেচের জল সম্পূর্ণ নিখরচায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্ষেতমজুরদের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ নিজস্ব জমি না থাকায় বা ভাগচাষি হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়ায় এতদিন তাঁরা এই প্রকল্পের আওতার বাইরে ছিলেন। এবার সেই বাধা দূর করা হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যোগ্য ক্ষেতমজুররা বছরে মোট ৪,০০০ টাকা করে আর্থিক অনুদান পাবেন। রবি এবং খরিফ— এই দুই মরসুমে ২,০০০ টাকা করে দুটি কিস্তিতে সরাসরি তাঁদের অ্যাকাউন্টে এই টাকা পৌঁছে যাবে। প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে রাজ্য সরকার শীঘ্রই একটি আলাদা তথ্যভাণ্ডার বা ডেটাবেস তৈরি করবে বলে জানানো হয়েছে।

ক্ষেতমজুরদের অনুদানের পাশাপাশি চাষিদের জন্য বড় স্বস্তির খবর শুনিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সরকারি টিউবওয়েল এবং নদীভিত্তিক সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে জল পেতে চাষিদের যে ফি বা কর দিতে হতো, তা পুরোপুরি মকুব করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের মতে, সারের দাম ও অন্যান্য খরচ যখন বাড়ছে, তখন সেচের জল বিনামূল্যে মিললে প্রান্তিক চাষিদের চাষের খরচ অনেকটাই কমবে। রাজ্যের দাবি, এই জোড়া পদক্ষেপে গ্রামীণ অর্থনীতির বুনিয়াদ আরও শক্ত হবে এবং চাষিদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন- অন্তর্বর্তী বাজেট: ডুমুরজলায় স্পোর্টস সিটি, বারুইপুরে কালচারাল সিটি! উন্নয়নে বড়সড় ঘোষণা রাজ্যের

_

_

_

_

_

_
_

