সামনেই বিধানসভা ভোট। তার আগেই রাজ্য সরকারের অন্তর্বর্তী বাজেটে আশা কর্মীদের(Asha Karmi) জন্য একাধিক ঘোষণা করা হলেও তাতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন তাঁরা। বাজেটে দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী(Finance Minister) চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য(Chandrima Bhattacharya) জানিয়েছেন, চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে আশা কর্মীদের মাসিক ভাতা এক হাজার টাকা করে বাড়বে। কিন্তু এই ঘোষণার পরও আশা কর্মীদের ক্ষোভ কমেনি, বরং তা আরও প্রকাশ্যে এসেছে।

আশা কর্মীদের(Asha Karmi) বক্তব্য, তাঁদের মূল দাবি ছিল ভাতা বৃদ্ধি নয়, স্থায়ীভাবে মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতন। সেই দাবিতেই শুক্রবার তাঁরা স্বাস্থ্য ভবনের সামনে বিক্ষোভে বসেন।

প্রসঙ্গত, পাঁচ দফা দাবিতে প্রায় ৮০ হাজার আশা কর্মী গত দেড় মাস ধরে কর্মবিরতি(strike) চালাচ্ছিলেন। বাজেটে সেই দাবিগুলির মধ্যে দু’টি সম্পূর্ণ এবং একটি আংশিক ভাবে মানা হয়েছে বলে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে। এতদিন আশা কর্মীরা মাসে ৫,২৫০ টাকা ভাতা পেতেন। নতুন ঘোষণায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আরও এক হাজার টাকা যোগ হওয়ায় তা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৬,২৫০ টাকা। কেন্দ্র ও রাজ্য মিলিয়ে তাঁরা মোটামুটি ১০ হাজার টাকার কাছাকাছি ভাতা পান।

এছাড়াও আশা কর্মীদের(Asha Karmi) জন্য ১৮০ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং কর্মরত অবস্থায় কোনও আশা কর্মীর মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে এত ঘোষণার পরেও আশা কর্মীদের দাবি এখানেই শেষ নয়। তাঁদের অভিযোগ, এখনও বহু মাসের বকেয়া ভাতা মেলেনি। কর্মবিরতির সময় বিভিন্ন ব্লকে(Block) মানসিক চাপ ও প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। পাশাপাশি কাজের জন্য যে মোবাইল ফোন দেওয়া হয়েছে, তার জন্য মাসে অন্তত সাড়ে ৩৫০ টাকার ৫জি রিচার্জ করতে হচ্ছে, অথচ তার জন্য কোনও আলাদা ভাতা নেই বলেও জানান কর্মীরা।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য আইসিডিএস কর্মী সমিতির নেত্রী রত্না দত্ত(Ratna Dutta) বলেন, “আমরা ন্যূনতম ২৬ হাজার টাকা ভাতার দাবি করেছিলাম। পাশাপাশি ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাঁদের বসিয়ে রাখা হয়েছিল, তাঁদের এককালীন পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছিল। রাজ্য সরকার সেই দাবিগুলি মানেনি।”

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের সম্পাদক(Secretary of the Union) ইসমত আরা খাতুন জানিয়েছেন, “শুক্রবার স্বাস্থ্যসচিবের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”

–

–

–
–

