লক্ষীর ভান্ডার এর সঙ্গে সঙ্গে রাজ্য সরকারের বার্ধক্য ভাতার প্রাপকদের ভাতাও একই হারে বাড়ছে। এ ব্যাপারে বিরোধীদের তোলা প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya) এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তারা এখন সরাসরি বার্ধক্য ভাষার আওতায় চলে যান। ফলে লক্ষীর ভান্ডার এর ভাতা বাড়লে যাঁরা বার্ধক্য ভাতার আওতায় চলে যাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে একই হারে বৃদ্ধি কার্যকর হবে। বিধবা ভাতা ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক নেই বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।

বাজেট বিতর্কের সূচনাতেই বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ভাতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ৬০ বছর বয়স হলে উপভোক্তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্ধক্য ভাতার আওতায় চলে যান, কিন্তু বার্ধক্য ভাতা বৃদ্ধির উল্লেখ নেই। সে প্রসঙ্গেই এ কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। যুবশ্রী প্রকল্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে—এই অভিযোগ খারিজ করে অর্থমন্ত্রী জানান, যুবশ্রী ও যুবসাথী দুটি আলাদা প্রকল্প। যুবশ্রীর জন্য ১৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে এবং বিরোধী দলনেতা ভুল তথ্য তুলে ধরছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বাজেটকে ‘মানুষের জন্য বাজেট’ বলে দাবি করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আদিবাসী ও তফসিলি সম্প্রদায়ের কথা মাথায় রেখেই বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের অভিযোগের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অন্য রাজ্যেও এ ধরনের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীরা সবসময় ঘটনাস্থলে যান।জবাবি ভাষণের শেষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা পাঠ করে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

এর আগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বাজেটের কড়া সমালোচনা করে বলেন, এটি প্রকৃত অর্থে অন্তর্বর্তী বাজেট নয়, বরং নির্বাচনী ইস্তাহারে পরিণত করার চেষ্টা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ভোট অন অ্যাকাউন্টে সাধারণত চলতি প্রকল্প ও বেতন খাতে চার মাসের ব্যয় মেটানোর ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু এখানে জুলাই মাসের পর কার্যকর হওয়ার মতো একাধিক ঘোষণা করা হয়েছে, যার সঙ্গে বাজেট বরাদ্দের সরাসরি সম্পর্ক নেই।

তিনি দাবি করেন, যুবসাথী প্রকল্প সম্পূর্ণ ভাঁওতা এবং গত ১৫ বছরে স্থায়ী সরকারি পদ কমে গিয়েছে। তফসিলি, প্রতিবন্ধী বা অন্য ভাতায় কোনও বৃদ্ধি হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে আশা ও আইসিডিএস কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে ‘সম কাজের সম বেতন’-এর দাবি তোলেন।

আলোচনার মধ্যেই বিরোধী দলনেতা বিধায়কদের এলাকা উন্নয়ন তহবিল ১ কোটি থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি টাকা করার প্রস্তাব রাখেন। প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশন বৃদ্ধির দাবিও জানান তিনি। এই প্রস্তাবকে কটাক্ষ করে তৃণমূল বিধায়ক অপূর্ব সরকার মন্তব্য করেন, বিরোধী দলনেতা বুঝে গিয়েছেন অনেকেই প্রাক্তন হতে পারেন বলেই এই দাবি তুলছেন।

বিজেপি বিধায়ক অশোক লাহিড়ী রাজ্য বাজেটকে কটাক্ষ করে ‘হাম্পটি ডাম্পটি’ বাজেট বলেন। তাঁর বক্তব্য চলাকালীন তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহ মন্তব্য করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তাঁদের উদ্যোগে উভয় পক্ষকে শান্ত করা হয়।

আরও পড়ুন – চেক বাউন্স মামলায় মিলল না স্বস্তি, তিহার জেলে আত্মসমর্পণ রাজপাল যাদবের

_

_
_

