রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদলের নির্দেশ দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ ভোটমুখী রাজ্যের নির্বাচনী কাজে যুক্ত আধিকারিকদের বাধ্যতামূলক বদলি ও পোস্টিং নীতি দ্রুত কার্যকর করার জন্য কড়া নির্দেশ জারি করেছে কমিশন। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, জেলা স্তরের প্রশাসনিক আধিকারিক, পুলিশ কর্তা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কর্মীদের ক্ষেত্রে এই নীতি প্রযোজ্য হবে। এমনকি আবগারি দপ্তরের নির্দিষ্ট পদমর্যাদার আধিকারিকদেরও এই বদলি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, ভোটের ময়দানে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কোনওরকম আপস করা হবে না।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও আধিকারিক যদি নিজের জেলায় কর্মরত থাকেন অথবা গত চার বছরের মধ্যে তিন বছর বা তার বেশি সময় একই জেলায় কাটিয়ে থাকেন, তবে তাঁকে অবিলম্বে সরিয়ে দিতে হবে। শুধু তাই নয়, যে সমস্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে অতীতে নির্বাচনী কাজে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে বা যাঁদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তাঁদেরকে নির্বাচনের কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা যাবে না বলে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এবারের নির্দেশিকায় আধিকারিকদের জন্য কিছু কঠোর শর্তও আরোপ করা হয়েছে। প্রত্যেক আধিকারিককে হলফনামা দিয়ে ঘোষণা করতে হবে যে, তিনি কোনও রাজনৈতিক নেতা বা প্রার্থীর নিকটাত্মীয় নন। পাশাপাশি, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা নেই— এই মর্মেও শংসাপত্র জমা দিতে হবে।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও অসম, কেরল, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ আগামী মে-জুন মাসে শেষ হতে চলেছে। সেই সময়সীমার কথা মাথায় রেখেই আগাম এই প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক মহলের মতে, সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট পরিচালনা করতেই এই ত্বরিত পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন – বাংলাদেশে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি: বিপুল ক্ষতির মুখে ভারতের বস্ত্র শিল্প

_

_

_

_
_

