কোনও চ্যাট বা মেসেজ নেই। কোনও যোগাযোগের সূত্র নেই। তা সত্ত্বেও কোরিয়ার প্রেমিককে ভালোবেসে আত্মঘাতী কেরালার (Kerala) ১৬ বছরের এক কিশোরী। কিশোরীর সুইসাইড নোট (suicide note) থেকে পাওয়া তথ্য সন্দেহ হওয়ায় আত্মহত্যার তদন্তে বড়সড় সাইবার ফাঁদের (cyber trap) সন্ধান শুরু কেরালার পুলিশের (Kerala Police)। স্কুলে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও স্কুল পড়ুয়াদের মোবাইল নিয়ে যাওয়ার জেরেই কিশোরীর মৃত্যু কি না, তদন্তে পুলিশ।

কেরালার থিরুভানিউরের কক্কড় এলাকার বাসিন্দা আদিথ্য নামে ওই ছাত্রী স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। পরে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি জলভরা খাদান থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিঠিও (Letter) মেলে। সেখানে লেখা ছিল— কোরিয় এক বন্ধুর (Korean friend) আকস্মিক মৃত্যুতে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল।

এরপর আদিথ্যর মোবাইল ঘেঁটে কোনও বিশেষ বন্ধুর বিষয়ে কোনও তথ্য না পাওয়াতেই সন্দেহ হয় পুলিশের। পরিবারের সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি তাকে একটি উপহার তার এক কোরিয় (Korean) বন্ধু পাঠিয়েছিল। যদিও অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, সেই উপহার তারই এক বন্ধুর ভাই তাকে দিয়েছিল। আবার সে বাড়িতে জানিয়েছিল, তার এক বন্ধুর এক কোরিয়ান প্রেমিক (Korean boyfriend) রয়েছে। সেই বন্ধুটি আবার কোরিয়ায় তার বাড়িতে গিয়েছিল পরিবারের সঙ্গে।

যাবতীয় কোরিয় যোগ পাওয়ার পরই আদিথ্যর সোশ্যাল মিডিয়ায় এর কিছু সূত্র পাওয়া যায়। ‘ব্ল্যাক ভেনম’ নামে একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের (Instagram account) সন্ধান পায় পুলিশ। ওই অ্যাকাউন্টে নিয়মিত কোরিয় গান, ব্যান্ড ও বিভিন্ন ছবি শেয়ার করা হত। আদিথ্য কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস-এর (BTS) ভক্তও ছিল। ফলে এই অ্যাকাউন্টটি তাকে আকৃষ্ট করে। আশ্চর্যজনকভাবে এই অ্যাকাউন্টের অন্তত ৩০জন ফলোয়ার থাকলেও আদিথ্যর মৃত্যুর পরে সবাই আনফলো করে দেয় অ্যাকাউন্ট।

আরও পড়ুন : বিজেপির ছত্তিশগড়ে মিড-ডে মিল রাঁধুনিদের বেতন দিনে ৬৬! প্রতিবাদে ৪৮ দিন অনশন

আদিথ্যর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের বিষয়টি পুলিশের সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সিট গঠন করে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে উঠে আসে স্কুলে পড়ুয়ারা নিয়ম ভেঙেই মোবাইল ফোন আনত। তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্টও রয়েছে। তদন্তে এমনও উঠে এসেছে, স্কুলের এলাকা থেকে একটি মোবাইল থেকে মোট ৮ টি ইনস্টা অ্যাকাউন্ট (Instagram account) অপারেট করা হত। এই সব সূত্র জুড়ে আদিথ্যর মৃত্যুর তদন্তে কেরালা পুলিশ। আদৌ এই মৃত্যু আত্মহত্যা, আত্মহত্যায় প্ররোচনা, না পরিকল্পিত খুন – তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

–

–

–

–


