প্রশাসন চালাতে কী শুধুই মানুষের প্রয়োজন? অবশ্যই প্রতিটি দেশের সেনাবাহিনী তার উত্তরে ‘না’ বলবে। কারণ দেশের সেনাবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে থাকে সারমেয় (dog)। তবে মার্জাররাও (cat) যে দেশের প্রতিরক্ষার কাজে যোগ দিতে পারে, তার প্রমাণ ইংল্যান্ড (England) থেকে বারমুডার মতো দেশ। মানুষ বা সারমেয় যখন প্রবল বড় বড় শত্রুদের থেকে দেশকে রক্ষা করে, তখন এই মার্জারদের কাজ হল দেশের নথি রক্ষা করা। ইঁদুরের (mouse) হাত থেকে।

লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে (10 Downing Street) রবিবার এক ব্যতিক্রমী জন্মদিনের আবহ। কোনও রাজনীতিবিদ নন—ব্রিটিশ (British) সরকারের ইঁদুরধরার সৈনিক (Chief Mouser) ও দেশের সবচেয়ে পরিচিত বিড়াল ল্যারি (Larry) তার দায়িত্ব নেওয়ার ১৫ বছর পূর্তি উদ্যাপন করল। ল্যারির বয়স আনুমানিক ১৮–১৯ বছর। হাঁটা ধীর হলেও সে কাজে ফাঁকি দেয় না। প্রতিদিন নিজের এলাকা নিয়ম করে পাহারা দেয় ল্যারি।

শুধু ইঁদুর দমনের কাজ সে করে না বরং তার সঙ্গে অতিথিদের স্বাগত জানানো, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ‘পর্যবেক্ষণ’ করা এবং প্রাচীন আসবাবপত্র ঘুমানোর উপযোগী কি না, তা পরীক্ষা করার দায়িত্বও রয়েছে তার কাঁধে।

২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাস্তার এক সাধারণ পথভ্রষ্ট জীবন থেকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে ল্যারি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন (David Cameron) তাকে ব্যাটারসি ডগস অ্যান্ড ক্যাটস হোম (Battersea Dogs & Cats Home) থেকে দত্তক নেন। এরপর ছয়জন প্রধানমন্ত্রী বদলালেও ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে চিফ মাউসারের দায়িত্বে ল্যারিই (Larry) থেকে গিয়েছে। তবে অনেকে বলে, সে নয় বরং প্রধানমন্ত্রীরাই যেন তার অধীনে কাজ করেছেন।

১০ ডাউনিং স্ট্রিটে থাকার কারণে শুধুমাত্র ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার সদস্যই নয়, বিশ্বনেতাদের সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ হয়েছে। যার মধ্যে বারাক ওবামাক (Barack Obama), ভলোদিমির জেলেনস্কি (Volodymyr Zelenskyy), এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump) পছন্দও করেছিল সে।

আরও পড়ুন : কেন অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পশু ক্যাঙ্গারু? বিচ দেখতেই লাগবে ৩২ বছর! রইল কিছু তথ্য

দুষ্টের দমন যেমন রাজার কর্তব্য, তেমনই শিষ্টের পালনও যে রাজাকেই করতে হয় – ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে ল্যারির উপস্থিতি যেন সেটাই প্রমাণ করে। যেখানে বিশ্বের একাধিক দেশে পথকুকুর বা পায়রায় জন্যও রাষ্ট্রের দমননীতি দেখা গিয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে, সেখানে ব্রিটিশদের (British) মার্জারপ্রেম এক নতুন কাহিনী তৈরি করেছে। অনেকের চোখে ল্যারি (Larry) শুধুমাত্র একটি বিড়াল নয়—সে ব্রিটেনের ‘নরম শক্তি’র প্রতীক। অধ্যাপক হাওয়েলের মতে, কোনও প্রধানমন্ত্রী যদি ল্যারিকে সরাতে চান, সেটা রাজনৈতিক আত্মহত্যার সমান।

–

–

–


