দুবছরের কাজ করতে হবে দুমাসে। তাতে ভুল হলে যে কমিশনের শাস্তি নিশ্চিত তা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যদিও বিহারে (Bihar) ৫২ আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission), বলে দাবি করেন বিজেপি নেতা। বাংলায় এখনও সেই সংখ্যাটা ১১। নতুন করে দ্রুত কাজের চাপে সাসপেনশনের (suspension) খাঁড়া সাত আধিকারিকের উপর। সেই সঙ্গে নতুন করে ফর্ম ৭ (Form 7) নিয়ে কাজ শেষ করার দিন বেঁধে দেওয়া হল।

বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সময়ই রাজ্যের আধিকারিক থেকে বিএলও (BLO) হিসাবে নিযুক্ত রাজ্য সরকারের কর্মীরা অভিযোগ তুলেছিলেন বিরোধী দলনেতাসহ বিজেপি নেতাদের হুমকির। যেভাবে বিহারের উদাহরণ দিয়ে কাজের চাপ দিচ্ছিলেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা, তাতে কাজের চাপের পাশাপাশি মানসিক চাপ বাড়ছিল তাঁদের এমন অভিযোগ করেছিলেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হল।

এসআইআর শুনানির শেষে ফের রাজ্যের সাত আধিকারিকের উপর নির্বাচন কমিশনের সাসপেনশনের (suspension) খাঁড়া। রাজ্যের পাঁচ বিধানসভার মোট সাত এইআরও-র (ERO) বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ দিল কমিশন (Election Commission)। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পূর্বের দুই এইআরও সত্যজিৎ দাস এবং জয়দীপ কুন্ডু, জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির এইআরও ডালিয়া রায়চৌধুরী, মুর্শিদাবাদের সমশেরগঞ্জের এইআরও শেফাউর রহমান, ফরাক্কার এইআরও নীতীশ দাস, সুতির এইআরও শেখ মুর্শিদ আলমকে এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার এইআরও দেবাশিস বিশ্বাসকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ।

আরও পড়ুন : ব্যাঙ্কে ঋণের পরিমাণ বাড়াই প্রমাণ, বাড়ছে দেশের ক্ষুদ্রশিল্প: নরেন্দ্র মোদি

এর আগে একইভাবে কাজে গাফিলতির অভিযোগ তুলে রাজ্যের চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্য প্রশাসনকে এফআইআর দায়ের করারও নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে রাজ্যে নির্বাচনের আগে যে পরিস্থিতিতে কমিশনের চাপিয়ে দেওয়া এসআইআর-এর কাজ চালানো হচ্ছে তাতে রাজ্যের সরকারির কর্মী বা আধিকারিকদের উপর কোনও ব্যবস্থা নেয়নি রাজ্য সরকার। এনিয়ে মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে (Nandini Chakraborty, CS) দিল্লিতে ডেকে পাঠায় কমিশন। নতুন করে যে সাত আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে কমিশন, তাঁদের ক্ষেত্রেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ রাজ্যকেই দিয়েছেন কমিশন।

আধিকারিকদের সাসপেনশনের পাশাপাশি রবিবার নির্বাচন কমিশনের তরফে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ফর্ম ৭-এর (Form 7) কাজ শেষ করতে হবে ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। রাজ্যের যত ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া, তা এই ফর্ম৭-এর মাধ্যমেই হচ্ছে। সেই কাজ ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করতে হবে সব ইআরও এবং এইআরও-দের, নির্দেশ কমিশনের। ঠিক যেভাবে দিন বেঁধে দিয়ে বারবার কাজের চাপ দেওয়া হয়েছে বিএলও থেকে রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের উপর, সেই প্রক্রিয়া এবার ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের কাজ শেষের জন্যও জারি রাখল নির্বাচন কমিশন।

–

–

–

–

