চোখের জলে শেষ বিদায়। সাহিত্যিক মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের (Manishankar Mukhopadhyay) ইচ্ছে অনুযায়ী, রাখা হল না তাঁর দেহ। শুক্রবারই কলকাতার কেওড়াতলা (Keoratala) মহাশ্মশান-এ তাঁর শেষকৃত্য। উইলে তিনি দে’জ পাবলিশিং (Dey’s Publishing)-এর কর্ণধার সুধাংশুশেখর দে (Sudhanshu Shekhar Dey)-কে ‘কাস্টডিয়ান’ (Custodian) হিসেবে মনোনীত করে গিয়েছিলেন।

বাংলা সাহিত্যের অধ্যায়ের অবসান। প্রয়াত সাহিত্যিক মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায় (Manishankar Mukhopadhyay) পাঠকের কাছে যিনি ‘শঙ্কর’ নামেই পরিচিত। ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ব্রেন টিউমারে ভুগছিলেন। তাঁর প্রয়াণের খবরে সাহিত্যপ্রেমীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবার সূত্রে খবর, শুক্রবারই কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য। ছোট মেয়ে তনয়া এই মুহূর্তে কলকাতায় থাকায়, উইলে উল্লেখ করা তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী, বড় মেয়ের আমেরিকা থেকে আসার জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে না।

২০২৩ সালে করা নিজের উইলে শঙ্কর স্পষ্টভাবে জানিয়ে গিয়েছিলেন মৃত্যুর পর কীভাবে সব কিছু হবে। দেহ যেন কখনও ঠান্ডাঘরে না রাখা হয়—এই নির্দেশ ছিল তাঁর অন্যতম। হাসপাতালে মৃত্যু হলে দেহ প্রথমে বন্ডেল রোডের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি। সেখান থেকে সরাসরি কেওড়াতলায় দাহ। রবীন্দ্রসদন বা অন্য কোথাও দেহ শায়িত রাখা যাবে না—এ কথাও স্পষ্ট করে লিখে গিয়েছিলেন তিনি। এমনকী অনাবশ্যক কোনও আচার বা সাজসজ্জা যেন তাঁর দেহের উপর না চাপানো হয়, সে বিষয়েও উইলে কড়া নির্দেশ।

উইলে দে’জ পাবলিশিং (Dey’s Publishing)-এর কর্ণধার (Leader) সুধাংশুশেখর দেকে ‘কাস্টডিয়ান’ হিসেবে মনোনীত করে গিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর কোন কোন সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হবে সবটাই লিখিত ছিল সেই উইলে।

শঙ্কর জানিয়ে গিয়েছিলেন, মৃত্যুসংবাদ আত্মীয়স্বজনদের দেওয়া হবে ঠিকই, কিন্তু কারও জন্য অপেক্ষা করা হবে না। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, সাহিত্যিকের সমস্ত ইচ্ছেকেই সম্মান জানানো হয়েছে।

–

–

–

–


