দল ছেড়ে তাঁকেই সব থেকে বেশি নিশানা করেছিলেন প্রতীক উর রহমান। শুক্রবার, সাংবাদিক বৈঠক করে সেন্টিমেন্টাল তাস খেললেন সিপিএম (CPIM)-এর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Md Selim)। আই প্যাকের নাম না করে ঠুকেও সেলিমের মন্তব্য, প্রতীকের মতো কর্মীকে হারানো আমার কাছে সন্তানহারা হওয়ার সমান।

হঠাৎ করেই দিন কয়েক আগে দলকে দেওয়া প্রতীকের চিঠি ভাইরাল হয়। সেখানে প্রতীকউর লিখেছিলেন, দলের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না। সেই কারণেই ছেড়ে দিচ্ছেন। সংবাদ মাধ্যমে মুখ খুলেই একের পর এক বোমা ফাটান প্রতীক। তাঁর অভিযোগের তির সরাসরি সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে। সঙ্গে তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা। প্রতীক বলেন, “মহম্মদ সেলিম আজ মাত্র কয়েকজনকে নিয়ে দল চালাচ্ছেন।“ তাঁদের মতো নেতাদের পদ-সম্মান কিচ্ছু নেই। অভিমানী প্রতীকের সঙ্গে চিঠি দেওয়ার পর থেকে যোগাযোগ করেননি সেলিম। ক্ষোভ উগরে প্রতীক (Pratim Ur Rahaman) বলেন, “মহম্মদ সেলিম হুমায়ুন কবীরের মতো নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার সময় পান, অথচ নিজের দলের নেতাদের ফোন করার বা কথা বলার সময় তাঁর হয় না।“ তাঁর অভিযোগ, সেলিম সাহেব গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দল চালানোর বদলে নিজের একটি ছোট বলয় তৈরি করেছেন।

এর পরে এদিন সাংবাদিক বৈঠক করতে বসে একের পর এই বিষয় নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় সিপিএমের রাজ্য সম্পাদককে। শেষ পর্যন্ত মুখ খোলেন তিনি। তাঁর মন্তব্য, পেশাদার সংস্থার করা স্ক্রিপ্ট-এ সিপিআইএম ভেঙে যাবে না। সিপিআইএম-কে প্রশ্ন করছে বলেই প্রতীকউরের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ছে। সেলিম (Md Selim) অভিযোগ করেন, “গত দেড় দুমাস ধরে আমাদের পার্টিতে কয়েকটা অভিযোগ আসে, আমি নিয়ে দায়িত্ব নিয়ে রাখি। তখন থেকে কন্টাক্ট লুজ হয়েছে। জানতে পারি আরও কিছু কন্ট্যাক্ট ডেভেলপ হচ্ছে। তারপর আমাদের পার্টি থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।“

এর পরেই সেন্টিমেন্টাল তাস খেলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক। তাঁর কথায়, “প্রতিকুরের ইস্তফা, বেদনাদায়ক। আমাদের কমিটির বৈঠকে আমাকেই উত্থাপন করতে হয়। করেছি। এই ধরনের কর্মীকে হারানো আমার কাছে সন্তানহারা হওয়ার সমান।“

এর পরে বিরোধীদের নিশানা করে সেলিম বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে দমবন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে দেখবে কতজন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যায়, আর বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে (TMC)।

–

–

–

–

–


