হিংসা বিধ্বস্ত মনিপুর। গোটা বিশ্বমঞ্চে সেই হিংসা ও তার মধ্যে শান্তির আশা ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন ওরা। তার সাফল্য এবার ছুঁল ‘বাফটা’র (BAFTA) স্বীকৃতি। হলিউডের (Hollywood) তাবড় সিনেমাকে পিছনে ফেলে বাফটা জয় ভারতীয় চলচ্চিত্র বুং-এর (Boong)। পুরস্কার জয়ে গোটা বিশ্বের সামনে সেই শান্তি ও ক্ষমাশীলতার বার্তাই পৌঁছে দিলেন পরিচালক লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী (Lakshmipriya Devi)।

লড়াইটা সহজ ছিল না। তালিকায় ছিল ডিজনির (Disney) একাধিক ছবি। তার মধ্যে যেমন লিলো ছিল তেমনই ছিল জুটোপিয়া-টু। সেই ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি অফ ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন আর্টস-এর (Bafta) মঞ্চে চিল্ড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলি ফিল্মস বিভাগে সেরার স্বীকৃতি আদায় করে নিল মনিপুরী ভাষার চলচ্চিত্র ‘বুং’ (Boong)।

গত কয়েক বছর ধরে যেভাবে জাতি সংঘর্ষে ক্ষতবিক্ষত মনিপুর (Manipur), তারই ছবি তুলে ধরেছে এই সিনেমা। যে জনজাতির মানুষেরা এই সংঘর্ষের কারণে ঘরছাড়া, তাঁদের কাহিনী তুলে ধরেছেন পরিচালক লক্ষ্মীপ্রিয়া বুং-এর চরিত্রের মধ্যে দিয়ে। সংঘর্ষে হারিয়ে যাওয়া বাবাকে খুঁজতে গিয়ে সংঘাত থামানোর যে বার্তা বুং তার শিশুসুলভ সারল্যের মধ্যে দিয়েছে, তা-ই এই সিনেমার মূল কথা।

এই কাহিনী দেখেই প্রযোজনায় এগিয়ে এসেছিলেন বলিউড পরিচালক-প্রযোজক ফারহান আখতার (Farhan Akhtar)। তাঁর পাশাপাশি এই সিনেমার সহ-প্রযোজক রীতেশ সিধওয়ানি, সুজাত সওদাগর ও অ্যালান ম্যাকঅ্যালেক্স। সুজাত ছাড়া তিনজনেই বাফটা-র মঞ্চে পুরস্কার নিতে উপস্থিত ছিলেন। আর সেখানেই পরিচালক লক্ষ্মীপ্রিয়া তুলে ধরেন তাঁর চলচ্চিত্রের মূল বার্তাটিও।

আরও পড়ুন : মুখ্যমন্ত্রী, উপ-মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণার পরই জ্বলছে মনিপুর: বিক্ষোভ কুকি জনজাতির

মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লক্ষ্মীপ্রিয়া জানান, এই চড়াই চড়ে আসাটা একেবারে অজানা কোনও অভিযানে শেষ কয়েক ধাপ ওঠা যে পর্বতে আপনি সবার আগে উঠছেন সেটা জানতেনই না। সেই সঙ্গে বার্তা দেন, এই মঞ্চকেই আমি ব্যবহার করতে চাই মনিপুরে (Manipur) শান্তি ফেরানোর মঞ্চ হিসাবে। প্রার্থনা করি কোনও সংঘাত যেন মানুষের যে ক্ষমাশীলতার ক্ষমতা তাকে নষ্ট করে না দেয়।

–

–

–

–


