সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে মঙ্গলবার থেকেই শুরু হচ্ছে SIR-এর চূড়ান্ত নথি যাচাই প্রক্রিয়া। প্রথম পর্যায়ে অন্তত ২৫০ জন বিচারক প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লক্ষ ভোটারের নথি খতিয়ে দেখবেন। গোটা প্রক্রিয়াই হবে ডিজিটাল পোর্টালের (Digital Portal) মাধ্যমে, যেখানে প্রত্যেক বিচারকের জন্য আলাদা লগ-ইন আইডি তৈরি করা হয়েছে।

রাজ্যের CEO দফতর সূত্রে খবর, হাইকোর্ট (Calcutta High Court) থেকে বিচারকদের তালিকা পাওয়ার পর তাঁদের জন্য পৃথক লগ-ইন আইডি তৈরি করা হবে। কমিশনের পোর্টালে নির্দিষ্ট জায়গায় নাম ও ফোন নম্বর নথিভুক্ত করলে ওটিপি মিলবে। সেই OTP ব্যবহার করে লগ-ইন করবেন জুডিশিয়াল অফিসাররা।

পোর্টালে ঢোকার পর সংশ্লিষ্ট বিচারককে জানাতে হবে তিনি কোন বিধানসভা কেন্দ্রে দায়িত্বে রয়েছেন। তারপর বুথভিত্তিক পার্ট নম্বর নির্বাচন করতে হবে। তা সিলেক্ট করলেই নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত ভোটারদের তালিকা সিরিয়াল নম্বর-সহ সামনে আসবে।

প্রত্যেক ভোটারের নামের পাশে থাকবে দু’টি বিকল্প। একটি বিকল্পে ক্লিক করলে দেখা যাবে সংশ্লিষ্ট ভোটারের এনিউমারেশন ফর্ম এবং শুনানিতে জমা দেওয়া নথির বিবরণ। অন্য বিকল্পে থাকবে ইআরও, এইআরও, মাইক্রো অবজার্ভার ও বিএলও-র পর্যবেক্ষণ, সঙ্গে স্ক্রুটিনিতে কী মন্তব্য করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য। সব তথ্য যাচাই করে বিচারক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সেখানে থাকবে ‘রিজেক্ট’ ও ‘অ্যাকসেপ্ট’- দু’টি অপশন। পাশাপাশি ‘কমেন্ট’ বক্সে বিচারককে উল্লেখ করতে হবে তাঁর পর্যবেক্ষণ এবং কেন তিনি গ্রহণ বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলেন।

শনিবার কমিশন ও রাজ্য প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। রবিবারও ভার্চুয়াল বৈঠক হয়। সেখানে নথি যাচাইয়ের পদ্ধতি ও কমিশনের গাইডলাইন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে খবর। সোমবার কমিশনের আইন শাখার আধিকারিকেরা ২৫০ জন বিচারককে প্রশিক্ষণ দেন।

এই ২৫০জনের মধ্যে এনডিপিএস ও পকসো আদালতের প্রায় ১০০ জন বিচারক রয়েছেন। অন্য আদালত থেকেও বিচারকদের যুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতি বিধানসভায় একজন করে বিচারক বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক নিয়োগের চিন্তাভাবনাও রয়েছে বলে হাই কোর্ট সূত্রে খবর।

কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতি জেলায় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি। ওই কমিটিতে থাকবেন জেলা বিচারক, জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ যথাযথ মানা হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখবে এই কমিটি। পাশাপাশি এসআইআর সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের সময় যাতে বিচার প্রক্রিয়া থমকে না যায়, সে জন্য বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই চূড়ান্ত যাচাই প্রক্রিয়াই ঠিক করবে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের (Voter) নাম তালিকায় থাকবে কি না। প্রশাসনিক মহলের মতে, আদালতের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই পর্যায়টি এসআইআর প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এখন নজর, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক নথি যাচাই কত দ্রুত সম্পন্ন হয়।

–

–

