মেট্রোরেলের (Kolkata Metro) সফর করতে করতে আচমকা বিদ্যুৎ চলে গেলে দীর্ঘক্ষণ টানেলে আটকে থাকতে হয় যাত্রীদের। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন, নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে যথেষ্ট বিপাকে পড়তে হয়। এমনিতেই প্রত্যেকদিন মেট্রোতে যাতায়াতের পথে একাধিক সমস্যার মুখে পড়তে হয় যাত্রীদের, কিন্তু এবার মিলল সুখবর। এখন থেকে আর বিদ্যুৎ অফ হয়ে গেলে মেট্রোর (Metro Rail) টানেলে আটকে পড়ে থাকতে হবে না। গড়িয়ে গড়িয়ে নিকটবর্তী প্লাটফর্মে পৌঁছে যাবে পাতালরেল। আর এই কাজের জন্য সাহায্য করবে, ব্যাটারি ব্যাকআপ সিস্টেম (battery backup system) । বুধবার সেন্ট্রাল মেট্রো স্টেশনে (Central metro station) এই আধুনিক ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (modern battery energy storage system) চালু করা হয়েছে।

মেট্রো যাত্রা মানেই যেন বিভীষিকা। বিশেষ করে ব্লু লাইট মেট্রো (blue line metro service) পরিষেবায় প্রত্যেকদিন ভোগান্তির শিকার হতে হয় যাত্রীদের। ট্রেন দেরি করে স্টেশনে পৌঁছনো, দরজা বন্ধ না হওয়া, একাধিক স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার মতো নানা সমস্যায় জেরবার হতে হয় প্রতিদিন। তাই যখনই মেট্রোরেলের তরফে নতুন কোন ঘোষণা করা হয় তার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। তবে এবার জানানো হয়েছে যে দেশের মধ্যে এবং পূর্ব ভারতে ব্যাটারি ব্যাকআপ ব্যবস্থা এই প্রথম। ইঞ্জিনিয়ারদের মতে, হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে বা গ্রিডে সমস্যা হলে এই ব্যাটারিতে জমা থাকা বিদ্যুৎ ব্যবহার করে টানেলে আটকে পড়া মেট্রোকে পরবর্তী স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৫৫ কিমি গতিতে নিয়ে যাওয়া যাবে। এই সময় টানেলের ভেন্টিলেশন ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও চালু থাকবে। ফলে যাত্রীদের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা কমবে।আপাতত দক্ষিণেশ্বর থেকে টালিগঞ্জ (মহানায়ক উত্তম কুমার) পর্যন্ত এই পরিষেবা পাওয়া যাবে।বুধবার এই ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার এস. এস. মিশ্র এবং অন্যান্য আধিকারিকরা। এই কাজটি সম্ভব করেছে ডেল্টা ইলেকট্রনিক্স ইন্ডিয়া (delta electronics India)। সংস্থার তরফ থেকে বলা হয়, ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার সিস্টেমে ৬.৪ মেগাওয়াট-আওয়ার ক্ষমতার লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। এই ব্যাটারির আয়ু প্রায় ১৪ বছর। এটি পরিবেশবান্ধব এবং আগের ডিজেল জেনারেটরের তুলনায় দূষণ কম হবে বলে আশাবাদী মেট্রো কর্তৃপক্ষ।

–

–

–

–

–

–

–

–


